Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৫০০ টাকার জন্য ভাঙা হলো নারীর হাত!

গত ১০ জুন রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ঘটনাটি ঘটে

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ০৭:০৮ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৫০০ টাকার জন্য কল্পনা রানী দাস ওরফে আল্পনা (৪৮) নামের এক নারীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে ওই নারী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগে ১০ জুন রাত ৯টার দিকে উপজেলার মজলিশপুর নৌকাঘাটে এ ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগী কল্পনা রানী দাস সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা পাওয়ার আশায় তালিকায় নাম অন্তভুর্ক্তির জন্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আওয়াল মিয়ার কাছে যান। কিন্তু তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। 

পরে কল্পনা রানী আরেক ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খোরশেদ আলমের কাছে গেলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তার আড়াই হাজার টাকার কার্ড করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। বিনিময়ে সেখান থেকে ৫০০ টাকা দাবি করলে সেই প্রস্তাবে রাজি হন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তার অর্থ পাননি কল্পনা।

এদিকে, গত ১০ জুন রাত ৯টার দিকে আল্পনাকে মজলিশপুর নৌকাঘাটে ডেকে নিয়ে যান ইউপি সদস্য খোরশেদের ছেলে খায়েশ মিয়া। সেখানে গেলে তার কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেন খায়েশ। তখন কল্পনা জানান, তার ফোনে প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তার অর্থ আসেনি। এরপর কল্পনাকে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন খায়েশ মিয়া। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়। এছাড়া বাম হাতেও আঘাত লেগে রক্ত জমাট বেধে যায়। পরে কল্পনার ১০ বছর বয়সী ছেলে গিয়ে মাকে উদ্ধার করে। 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কল্পনা বলেন, “দাবি অনুযায়ী ৫০০ টাকা না পেয়ে মেম্বারের ছেলে মারধর করে ডান হাত ভেঙে দিয়েছে। বাম হাতেও ব্যথা আছে। তিন বেলা খাবার না যোগাড় করতে না পারলে সন্তানরাও না খেয়ে মারা যাবে।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তার তালিকার বিষয়ে ওই নারীর সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আমি এমন কোনো তালিকা দেইনি। এই অভিযোগ সত্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “ওইদিন রাতে ঢাকায় যাওয়ার পথে নদী পার হওয়ার সময় ধাক্কাধাক্কিতে হয়তো পড়ে গিয়ে তার হাত ভেঙেছে। আমি তার বাসায় গিয়েছি। তাকে চিকিৎসার জন্য টাকাও দিয়েছি। বিষয়টি সমাধানের জন্য ডাকা হলেও তিনি আসেননি।”

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য মজলিশপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা ইউএনও পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, “মারধরের অভিযোগটি পেয়েছি। অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

About

Popular Links