Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কুড়িগ্রামে করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকা নার্সদের দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা!

১৪ জুন জেলাটির চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নার্সের নমুনা সংগ্রহ করা হয়, এরপর ৩০ জুন তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে, তবে এরমধ্যে প্রায় প্রতিদিনই তাকে হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২০, ১০:২৯ এএম

করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকার পরও  নার্সদের দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। নমুনা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার বিধান ও নির্দেশনা থাকলেও তা অমান্য করে নার্স ও অন্যান্য স্টাফদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের সেবায় ডিউটি দেওয়ার পর দুই নার্সের করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফল পজিটিভ হওয়ায় হাসপাতালের স্টাফ ও রোগীদের মধ্যে ভয়ের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। করোনাভাইরাস আক্রান্ত নার্স, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন)  নমুনা পরীক্ষায় পাওয়া ওই হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আমেনা বেগম করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৪ জুন ওই স্টাফ নার্সের নমুনা নেওয়া হলেও ১৫ জুন থেকে তাকে নিয়মিত ডিউটিতে নিযুক্ত করা হয়। সর্বশেষ তিনি গতকাল (২৯ জুন) হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন। আজ (৩০ জুন) সন্ধ্যায় তার নমুনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। এর আগে ওই হাসপাতালের অপর নার্স শারমিন সুলতানা করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হন। নমুনা নেওয়ার পর তাকেও একাধিক দিন তাকে হাসপাতালে ডিউটি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

যোগাযোগ করা হলে নার্স আমেনা বেগম এই প্রতিবেদককে জানান, নমুনা নেওয়া হলেও নার্সিং সুপারভাইজার মজিবর রহমান তাকে নিয়মিত ডিউটিতে নিযুক্ত করেন। নমুনা নেওয়ার পর গত ১৫ দিনে দুই তিনদিন বাদে তিনি প্রতিদিন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসময় হাপাতালে আউটডোরে বিভিন্ন সংখ্যায় রোগী আসার পাশাপাশি প্রতিদিন গড়ে ৫/৭ জন রোগী ইনডোরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়াও হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফদের সংস্পর্শে তিনি এসেছিলেন।

আমেনা বেগম বলেন, “নমুনা নেওয়ার পর কোয়ারেন্টাইনে থাকার নিয়ম থাকলেও আমাকেসহ নমুনা দেওয়া সকল স্টাফদের দিয়ে হাসপাতালে ডিউটি করানো হয়। এতে করে সকল স্টাফ ও রোগীদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।”

নমুনা পরীক্ষার ফল পেতে অস্বাভাবিক বিলম্বে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই স্টাফ নার্স বলেন, ‘“আমার কোনও উপসর্গ নেই । কিন্তু নমুনা দেওয়ার ১৫ দিন পর যদি ফলাফল পাওয়া যায় তাহলে আমরা কীভাবে বুঝবো আমরা আক্রান্ত কিনা! অথচ আরও আগে ফলাফল পেলে এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না, অন্যরাও ঝুঁকিতে পড়তো না। এখন আমি আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত।”

তবে নার্সিং ইন চার্জ মজিবর রহমান এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘“নমুনা দেওয়ার পর স্টাফ নার্স আমেনা বেগম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। নমুনা দেওয়ার পর ১৫ দিন পার হওয়ায় গত ২৯ জুন তিনি ডিউটি করেছেন। এর আগে তাকে ডিউটি দেওয়া হয়নি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, “নমুনা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীকে ১৫ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। এ সময় তাদেরকে যেকোনও ধরনের ডিউটি থেকে বিরত রাখতে বলা হয়েছে। এরপরও যদি ওই নার্সদের ডিউটি দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে এটা ভুল করেছে।”

এ বিষয়ে কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, “বিষয়টি অনুসন্ধানে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। পাশপাশি হাসপাতালটি ডিসইনফেকশন (জীবাণুমুক্ত) করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

About

Popular Links