Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা দিলে ঘরে থাকব’

বিভিন্ন অজুহাতে ওয়ারীর বাসিন্দারা এলাকার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২০, ০৭:৪১ পিএম

ছোটখাটো ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন রাজধানীর ওয়ারী এলাকার বাসিন্দা স্বপন কুমার। করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে ওই এলাকায় চলছে ২১ দিনের লকডাউন। বিষয়টি জানা থাকা সত্ত্বেও নবাবপুরে যাওয়ার জন্য শনিবার (৪ জুলাই) সকালে বাড়ি থেকে বের হন তিনি।

কিন্তু ওয়ারীর বাইরে বেরোতে পারেননি তিনি। শুধু তাই নয়, এলাকার আসা-যাওয়ার পথের মুখে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায়ও জড়িয়ে পড়েন তিনি।

স্বপন বলেন, “আমি ২১ দিন ঘরে থাকতে পারব না। এই সময়ে আমার লোকসান কে বহন করবে? সরকারের উচিৎ আমাদের জন্য পাসের ব্যবস্থা করা। দৈনিক আমার ১০ হাজার টাকা খরচ আছে। সরকার আমাকে এই পরিমাণ টাকা দিলে ঘরে থাকতে আমার আপত্তি নেই।”

শনিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই লকডাউনে স্বপনের মতো ওয়ারীর আরও অনেক বাসিন্দা এলাকার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।


আরও পড়ুন- ওয়ারীতে চলছে ২১ দিনের লকডাউন


বিভিন্ন অজুহাতে তারা এলাকার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেউ বলছেন কর্মস্থল, কেউবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কথা। তবে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের অনড় অবস্থানের কারণে এদিন ওয়ারী থেকে কেউই এলাকার বাইরে যেতে পারেননি।

ওয়ারী হটকেক সার্ভিস গেটে গিয়ে আমিনুল এহসান নামে বাংলাবাজারের এক বই ব্যবসায়ী তো রীতিমতো চিৎকার করতে শুরু করেন।

পরে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “তারা আমাকে বাইরে যেতে দিচ্ছে না। বাংলাবাজারে আমার বইয়ের দোকান আছে। যেতে না পারলে বড় ধরনের লোকসান হবে আমার। এই এলাকায় খালি সুপারশপগুলো ছাড়া আর কোনো দোকানই খোলা নেই।”

আমিনুল আরও বলেন, “এই এলাকায় এখন লকডাউনের কোনো প্রয়োজন নেই। তারা টাকা দিয়ে লকডাউন নিয়ে এসেছে।”

ওয়ারীতে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবী হান্নান বলেন, “এলাকাবাসীর মঙ্গলের জন্য এই লকডাউন দেওয়া হয়েছে এবং সেজন্যই আমরা কাউকেই যেতে কিংবা আসতে দিচ্ছি না। কেউ এলাকার বাইরে যেতে চাইলে আমরা তার ছবি তুলে ঠিকানা নিয়ে রাখছি। ২১ দিনের লকডাউন শেষ হলেই কেবল তারা এলাকায় ঢুকতে পারবেন।”

ওয়ারী পুলিশের পেট্রোল ইন্সপেক্টর আখতার বলেন, “আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছি। কিন্তু জনগণ না চাইলে আমাদের আর কিছু করার নেই।”

তিনি বলেন, “এই এলাকায় ৪৬ জন কোভিড-১৯ রোগী আছেন। এলাকাবাসীর ভালোর জন্যই সরকার এলাকাটিকে রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংক্রমণ কমিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সবার উচিত কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা।”

ইন্সপেক্টর আখতার আরও বলেন, “এলাকাবাসীকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে ঘরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা।”

About

Popular Links