Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘চিতাবাঘের’ দাম ১০ লাখ!

ষাঁড়টির মালিক বলেন, এলাকার কোনো গরু তার সাথে যুদ্ধে পারে না

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২০, ০৭:২৭ পিএম

“চিতাবাঘ” নাম হলেও এটা কিন্তু বাঘ নয়। খুলনার তেরখাদার কাটেঙ্গা গ্রামের কায়নাতের শখের তেজদীপ্ত ষাঁড়ের নাম রাখা হয়েছে চিতাবাঘ। গায়ের রংয়ের কারণে ষাঁড়টির মালিক এমন নাম রেখেছেন। ক্রেতা ও ব্যাপারীদের কাছে তিনি এটির দাম হেঁকেছেন ১০ লাখ টাকা!

চার বছর আগে জন্ম নেয়া ষাঁড়টির আকৃতি এখন বিশাল। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার বাজারে তুলতে চাচ্ছেন চিতাবাঘকে।

কায়নাত বলেন, “ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য সাড়ে পাঁচ হাত এবং প্রস্থ সাড়ে তিন হাতের বেশি। ওজন ৪০ মণ। কালো আর সাদা রঙের ষাঁড়টি ক্রস জাতের। দেশিয় পদ্ধতিতে নিজের খামারে মোটাতাজা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি চিতাবাঘকে। সময়ের সাথে সাথে ওর আকৃতি বেড়েছে। চেহারা ও স্বভাবে সে এখন সত্যিই চিতাবাঘ। এলাকার কোনো গরু তার সাথে যুদ্ধে পারে না।”

“এবার গরুর জন্য খড় সঙ্কট ছিল। কষ্ট করে চার বছর ধরে গরুটি লালন পালন করে করোনার কারণে এবার দাম নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।” 

কায়নাত জানান, শখের বশে তিনি দীর্ঘদিন গরু পালন করেন। চিতাবাঘ ছাড়াও তার আরও কয়েকটি গরু রয়েছে।

কায়নাতের ছেলে এস এম বায়েজিদ হোসেন বলেন, “চিতাবাঘ প্রতিদিন খড়, ভূষি ও ঘাস খায়। চিতাবাঘ আমাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বড় হয়েছে।”

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, খুলনায় মোট ৬ হাজার ৮৯০ জন গবাদি পশুর খামারি রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি খামার আছে ডুমুরিয়া, তেরখাদা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায়। এসব খামারে মোট গবাদি পশু রয়েছে ৪৫ হাজার ১৪৮টি। এর মধ্যে ৪০ হাজার ৯৬৮টি গরু এবং ৪ হাজার ১৮০টি ছাগল ও ভেড়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোরবানিকে সামনে রেখে ব্যস্ত খুলনার গবাদিপশুর খামার মালিকরা। সম্পূর্ণ দেশিয় খাবারের ওপর নির্ভর করে পশুগুলোকে কোরবানির উপযুক্ত করে গড়ে তুলছেন তারা।

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এসএম আউয়াল হক বলেন, “এদেশের ধর্মভীরু মানুষ ঠিকই কোরবানি দেবেন। যার কারণে কোরবানির পশুও বিক্রি হবে। খামারিদের খুব বেশি হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এবার করোনার কারণে পশুরহাটে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচা-কেনা হবে। এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে কোরবানির পশু বিক্রি এখন ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরাও চেষ্টা করছি অনলাইনে খামারিদের গরু বিক্রিতে সহযোগিতার জন্য।”

About

Popular Links