Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্ত্রীকে সাহেদ: আমি ভালো আছি

সাহেদের ব্যবসা সম্পর্কে কিছুই জানতেন বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ১২:৩৯ পিএম

৬ জুলাই রাতে স্ত্রী সৌদিয়া আরাবি রিমির সাথে শেষ কথা বলেন প্রতারণা মামলার পলাতক আসামি রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ। তিনি স্ত্রীকে জানান যে একটু ঝামেলায় পড়েছেন তিনি। এ কারণে রাতে বাড়ি ফিরবেন না তিনি। রিমি সাহেদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি ঠিক আছি, ভালো আছি।” বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মো. শাহেদের স্ত্রী সৌদিয়া আরাবি রিমি গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, স্বামীর দু’টি হাসপাতাল আছে সেটা তিনি জানলেও তার অপকর্মের বিষয়ে কিছুই জানেন না। সংসার চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সাহেদকে অনেক সুযোগ দিয়েছেন বলেও দাবি করেন।

উল্লেখ্য, রাজধানীর ওল্ড ডিওএইচএস ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকেন সাহেদ। তবে তার হাসপাতালে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের অভিযানের পর থেকে তিনি আর বাসায় ফেরেননি। বর্তমানে দুই মেয়েকে নিয়ে ওই বাসাতেই অবস্থান করছেন রিমি।

২০০৪ সালে সাহেদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রিমি। ২০০৮ সালে সাহেদের এমএলএম ব্যবসা নিয়ে ঝামেলা হওয়ার পর মায়ের বাসায় চলে যান রিমি। পরের দুই বছর তিনি মায়ের সাথেই ছিলেন। যদি সাহেদ ঝামেলা মেটাতে পারেন তাহলে মায়ের বাসা থেকে ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। পরে ঝামেলা মিটে যাওয়ায় সাহেদের বাসায় ফিরে আসেন তিনি। তবে, সাহেদের এমএলএম ব্যবসা নিয়েও কিছু জানতেন না বলে জানিয়েছেন রিমি।

মাঝখানে সাহেদ দুই বছর জেল খেটেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার স্ত্রী বলেন, “সাহেদ দুই বছর জেল খাটেনি। ওই সময় তিনি ৩ মাস জেল খেটেছিলেন। পরে সাহেদ জামিন নিয়েছিলেন। আমি ভেবেছিলাম জেল থেকে বেরিয়ে সাহেদ বদলে গেছে।“

সাহেদের কোনো অপকর্মের বিষয়ে কিছু জানতেন কিনা জিজ্ঞেস করলে সাংবাদিকদের রিমি বলেন, “আসলে স্বামীর সঙ্গে তো কোনও স্ত্রীই সারা দিন থাকেন না। আমার সঙ্গে এসব নিয়ে সাহেদের কখনও কথা হয়নি। এসব কথা কখনও সে শেয়ার করতো না। বলতো না। তার কর্মচারীরাও কখনও বলতো না। কারণ, তারা জানতো এসব আমি কখনোই প্রশ্রয় দেবো না। তাই হয়তো বলতো না।”

“আমরা ভেবেছিলাম সাহেদ শুধরে গেছে। রিজেন্ট হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসা হচ্ছে এ নিয়ে আমরা আরও গর্ব করেছি। এত ভালো একটা উদ্যোগ। আমি নিজেও ফেসবুকে রিজেন্ট হাসপাতালের হটলাইন নম্বর প্রচার করেছি। যারা এখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন, তাদের ফেসবুক রিভিউ আমি শেয়ার করেছি,” যোগ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে সাহেদ কখনও সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন না বলেও জানান তিনি।

রিমি আরও বলেন, “সাহেদ এমন কাজ করে থাকলে আমরাও তার বিচার চাই। এ বিষয়ে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কিছুই বলার নেই। আমরা সবাই এই ঘটনায় অনেক কষ্ট পেয়েছি। সাহেদ অপরাধ করলে শাস্তি পাবে। এ নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।“

উল্লেখ্য, পরীক্ষা ছাড়াই করোনাভাইরাস টেস্টের রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠায় নির্বাহী এর আগে পরীক্ষা ছাড়াই করোনাভাইরাস টেস্টের রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখায় অভিযান চালায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

অভিযানে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত কমপক্ষে ৬ হাজার নকল কোভিড-১৯ টেস্ট রিপোর্ট জব্দ করে। পরের দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে হাসপাতাল দু’টিসহ রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দেয় র‍্যাব। এরপর থেকেই পলাতক রয়েছেন শাহেদ।

এ ঘটনায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়। ওইদিনই রিজেন্ট হাসপাতালের দু’টি শাখাই বন্ধ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এদিকে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহেদ করিমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

About

Popular Links