Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডা. সাবরিনাকে ‘বাঁচাতে’ চেয়েছিলেন তিনি!

র‍্যাব জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে সংসদ সদস্য, সচিবসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা করে আসছিলো

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২০, ০৩:৫৭ পিএম

করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অপরাধে গ্রেফতার হওয়া জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করে বর্তমান সঙ্কট থেকে তাকে উদ্ধারের বিনিময়ে অর্থ দাবি করেছিলেন রেজওয়ানুল হক নামে এক যুবক। এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন ও সাংসদ সাইফুজ্জামান শিখরের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া একাউন্ট খুলে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাদিরাবাদ বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)-১৩। 

বুধবার দুপুরে র‍্যাব-১৩'র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার মো. হাফিজুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

র‍্যাব জানায়, প্রতারক রেজওয়ানুল দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে সংসদ সদস্য, সচিবসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা করে আসছিলো। 

র‍্যাব কর্মকর্তা হাফিজুর বলেন, মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের নামে ভূয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দীর্ঘদিন ধরে সে প্রতারণা করছিলো। মেসেঞ্জারের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-নেত্রীদের বিভিন্ন কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়া, মামলা থেকে অব্যাহতি, ত্রাণের অনুমোদন পাইয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন সুবিধার নিশ্চয়তা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করত সে। টাকা পাঠানোর জন্য ডাচ বাংলা ব্যাংকের একটি হিসাব নম্বর দেওয়া হতো।


আরও পড়ুন- ডা. সাবরিনাকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর


এছাড়াও, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেনের নামেও ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে সে দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে প্রতারণা করে আসছিলো। ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় চার থেকে পাঁচশ' শিক্ষক ও শিক্ষা সচিবের বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচিতজনদের অসুস্থতা ও অপারেশনের কথা বলে অনুদান চেয়ে প্রতারণা করে আসছিলো। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য থেকে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরাও। অনুদান নেওয়ার জন্য সে একটি ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ব্যবহার করতো। 

তদন্তে দেখা যায়, সরল বিশ্বাসে শিক্ষকরা তাকে সত্যিকারের শিক্ষা সচিব ভেবে বিকাশের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা পাঠিয়েছেন। এছাড়াও সার্টিফিকেট পরিবর্তন করে দেওয়া, লোভনীয় জায়গায় পোস্টিং, পদোন্নতি, পরীক্ষার ফল পরিবর্তন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা ইত্যাদির প্রলোভন দেখিয়েও সে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা।

অভিযুক্ত রেজওয়ানুল হকের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালি গ্রামে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযুক্ত প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

About

Popular Links