Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রাবিতে অনলাইন ক্লাস: উপস্থিতি ৫০%-এরও নিচে

ইন্টারনেট ডাটা প্যাকের উচ্চমূল্য ও গতি কম হওয়ায় ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না অধিকাংশ শিক্ষার্থী

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২০, ০৬:৩০ পিএম

গত ৯ জুলাই থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইন ক্লাস শুরুর ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হাতেগোনা দু'-একটি বিভাগ ছাড়া অধিকাংশ বিভাগে এখনো পুরোদমে ক্লাস শুরু হয়নি। সার্বিকভাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও ৫০%-এরও নিচে।

সামনের দিকে এ সংখ্যা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ইন্টারনেট ডাটা প্যাকের বেশি মূল্য ও গতি কম হওয়ায় ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না অধিকাংশ শিক্ষার্থী। ইন্টারনেটের দাম কমানো না হলে অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতি আরও কমবে বলেও ধারণা তাদের। 

এসব বিষয় স্বীকার করলেও কিছু শিক্ষক মনে করেন, অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক মনোভাবও উপস্থিতি কম হওয়ার জন্য দায়ী।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য  আনন্দ কুমার সাহা বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারবে না জানা সত্ত্বেও আমরা এ কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের এই উদ্যোগে লক্ষ্য হচ্ছে ছাত্রদের পড়ালেখার সংস্পর্শে রাখা। মাত্র এক সপ্তাহ বেশি সময় না, চলতে থাকুক। ছাত্রদের উপস্থিতি ও শিক্ষকদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।”

কতদিন এ কার্যক্রম চলতে পারে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো দেননি। তবে কোরবানির ঈদের ছুটির পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৯টি বিভাগ ও ছয়টি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। গত এক সপ্তাহের পর্যবেক্ষণে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৫০%-এরও কম। 

যদিও অনুষদ ভেদে উপস্থিতির পার্থক্য দেখা গেছে। প্রকৌশল অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোতে  অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হার ৮০%-এর কাছাকাছি। বিজ্ঞান অনুষদে অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস শুরু হয়েছে। উপস্থিতির হার ৬০%-এর বেশি।

তবে দুই একটি বিভাগে এখনো ক্লাস না হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আইন অনুষদের দুটি বিভাগের মধ্যে আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা চলমান থাকায় ক্লাস বন্ধ রয়েছে। বাকি বর্ষগুলোতে ৫০% ওপরে উপস্থিতি রয়েছে। আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগেও উপস্থিতির হার একই রকম। 

তবে কৃষি অনুষদ ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৪০%-এর নিচে রয়েছে। কোনো কোনো ক্লাসে শিক্ষার্থীও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষকরা।

এছাড়া কলা অনুষদে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৫০%-এর কাছাকাছি। জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদেও পুরোদমে ক্লাস শুরু হয় নি। উপস্থিতির হার সন্তোষজনক নয় বলে  অনুষদ সূত্রে জানা গেছে। ব্যবসায় অনুষদেও ক্লাস শুরু হয়েছে তবে উপস্থিতি ৪০-৫০%-এর মধ্যে রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্লাসে অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান করছেন। এদের অনেকেরই  ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোন নেই। ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের গতি নিয়ে সমস্যা তো আছেই। এ ছাড়াও ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট কিনতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পক্ষে বর্তমান পরিস্থিতিতে যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের বৃহৎ একটি অংশকে অনলাইন ক্লাসের বাইরে থাকতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের বৃহৎ অংশ অনলাইন ক্লাসের বাইরে থাকার পেছনে ইন্টারনেট সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহকেও দায়ী করছেন শিক্ষকরা। তারা বলছেন, অনলাইন ক্লাস উপস্থিতি হিসেবে ধরা হবে না, তাই অনেকেই ইচ্ছা করে ক্লাসে করছে না। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ডীন নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, অনলাইনের ক্লাসের বিষয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী বিপক্ষে মতামত দেয়। এছাড়া সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও কলা অনুষদ ও চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ক্লাস না করার পক্ষে। ফলে এসব বিভাগগুলোতে উপস্থিতির হারও কম।  

উপস্থিতি আরও কমবে ?

অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলছে, পুরোদমে ক্লাস শুরু হলে দিনে দুই-তিনটি ক্লাসও থাকবে। তখন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের হার আরও কমে আসবে। এছাড়া বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য নিয়ে তাদের আপত্তি আছে। তারা বলছেন, অনেকে ক্লাসে যুক্ত হলেও ক্যামেরা বন্ধ করে নিজেদের মধ্যে মেসেজ আদান-প্রদান করে। ক্লাসে মনোযোগ থাকে না। বাইরে ঘোরাফেরা করে। অথচ শিক্ষকের দৃষ্টিতে সে ক্লাসে উপস্থিত।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এগ্রোনমী এন্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমি অনেক জুনিয়র ও সিনিয়রের সাথে মেসেঞ্জারে কথা বলেছি। তারা অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হয়ে আমার সঙ্গে মেসেজ করেছেন।”

একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

অনলাইন ক্লাসের জন্য শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য তিন সদস্যদের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

কমিটির চেয়ারম্যান ও ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল’র পরিচালক অধ্যাপক আবু বকর মো. ইসমাইল বলেন, “আমরা শিক্ষকদের সহযোগিতা করছি। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে আছে। ঢাবিতেও একই অবস্থা। আমরা আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাবো। তারা বিভাগের সভাপতি ও অনুষদের ডিনদের সাথে কথা বলে পরবর্তী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।”


About

Popular Links