Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাবা-মাকে মারধর করে কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ‘পরিকল্পিত’

ঘটনা তদন্তে পুলিশসহ একাধিক সংস্থা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ০৫:২৪ পিএম

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় মাঝরাত বাড়িতে ঢুকে বাবা-মাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা নেহায়েত লুট নয় বরং পূর্ব পরিকল্পিত ধর্ষণ বলে মনে করছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। তাদের দাবি, বিভ্রান্ত করার জন্য অভিযুক্তরা টাকা ও অলঙ্কার লুট করেছে। প্রাথমিক তদন্তে এমন অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে পুলিশ। 

ভুক্তভোগী পরিবার ও জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। ঘটনা তদন্তে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা মাঠে কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, রবিবার (২৬ জুলাই)  দিবাগত মধ্যরাতে বৃষ্টির মধ্যে বাড়িতে ঢুকে বাবা-মা ও ছোটবোনকে বেধরক পিটিয়ে জখম করে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে বাড়ির পাশে একটি বাগানে ধর্ষণ করে অজ্ঞাত এক যুবক। বাড়িতে লুটপাট ও কিশোরীকে ধর্ষণে তাকে সহায়তা করে আরও দুই যুবক। গুরুতর অবস্থায় কিশোরী ও তার বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এলাকাবাসী। বর্তমানে তারা উভয়ই কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা জানান, বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ ছিল না। অন্ধকারে তিন যুবক বাড়িতে প্রবেশ করে লোহার তার কাটা একটি যন্ত্র দিয়ে তাকে বেদম মারপিট করে। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং বুকে ও পায়ে জখম হয়। তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।  এরপর ওই যুবকরা তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে পিটিয়ে ঘরের ভেতর টাকা ও  স্বর্ণালঙ্কার লুট করে এবং তার মেজো মেয়েকে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি বাগানে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন করে।


আরও পড়ুন- বাবা-মাকে মারধর করে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ


চিকিৎসাধীন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘‘এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত।  আমার বাড়ির পাশের জমির মালিক এক প্রকৌশলী আমাকে আমার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে আসছেন। এছাড়াও আমার ফোনে বিভিন্ন সময় অপরিচিত নাম্বার থেকে মেয়েদের উদ্দেশ্য করে অশালীন এসএমএস আসতো। আমার ধারণা এই দুই পক্ষের কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তবে ওই তিন যুবকের সহযোগীতায় আশে পাশে একাধিক ব্যক্তি ছিল।’’

ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পাশের গাছ বাগানে পাশবিক নির্যাতন করে এক যুবক। এ সময় তাকে দুই দিক থেকে দুই যুবক হাত ধরে রাখে। নির্যাতন শেষে এক পর্যায়ে এক যুবক তার হাত ধরে রাখে। সে ওই যুবকের হাতে কামড় দিয়ে নিজেকে ছুটিয়ে নেয় এবং বাগানের পাশের ছোট একটি ডোবার পানিতে লাফ দিয়ে সাঁতরে পার হয়ে অপর প্রান্তের এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

ঘটনা তদন্তে পুলিশসহ একাধিক সংস্থা কাজ করছে জানিয়ে পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ঘটনা তদন্ত শুরু করেছি। আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার বাবার সাথে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। তারা প্রস্তুতি নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অপরাধীদের পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’’

ঘটনা তদন্তে সহায়তার জন্য একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

এদিকে বাড়িতে হামলা করে অভিভাবকদের ওপর হামলা এবং কিশারী ধর্ষণের প্রতিবাদে সম্পৃক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী ও জেলা ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার সকালে ছিনাই ইউনিয়নের কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে এলাকাবাসী এবং কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রলীগের ব্যানারে পৃথক দুটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

About

Popular Links