Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশ্ব বাঘ দিবস: ফাঁদে পড়ে মরছে বাঘ?

‘বাঘ ‍দুটি কুমিরের আক্রমণের শিকার হলে শুধু পা থাকবে না কেন? শরীরের অন্যান্য স্থানেও ক্ষত থাকার কথা। কুমির শুধু বাঘের পা ধরবে এমনটি চিন্তা করা অযৌক্তিক। বরং এরচেয়ে ফাঁদে পড়ে পা হারানোর সম্ভাবনাই খুব বেশি’

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৩৬ পিএম

মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে সুন্দরবন থেকে পা বিচ্ছিন্ন দুটি বাঘের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি বাঘের সামনে একটি পা ও অপর বাঘের পেছনের দুটি পা ছিল না। বন বিভাগ বলছে, বাঘ দুটি কুমিরের আক্রমণে পা হারাতে পারে, পরে অসুস্থ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কুমিরের আক্রমণের বিষয়টি মানতে নারাজ বাঘ বিশেষজ্ঞরা। তাদের ধারণা, শিকারিদের ফাঁদে পড়ে বাঘ দুটি পা হারাতে পারে এবং এমনটি হলে সেটি বাঘের অস্তিত্বের জন্য অশনি সংকেত। 

কোথায় গেল বাঘের পা?

গত ১০ জুলাই খুলনার কয়রায় সুন্দরবনের আন্ধারমানিক বন ফাঁড়ি এলাকা থেকে একটি বাঘের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। বাঘটির পেছনের দুটি পা ছিল না। একই সঙ্গে সামনের একটি পায়েও পঁচন ধরেছিল। 

এ বিষয়ে খুলনা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সুরবাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বাংলাদেশ কি ব্যর্থ হতে যাচ্ছে?তহাল প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক (অর্থ ও প্রশাসন) মিহির কুমার দো ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বাঘ দুটি বয়স্কজনিত কারণে অসুস্থ এবং পায়ে গ্যাংরিন হয়েছিল। পরে শিকার ধরতে না পারায় দুর্বল হয়ে প্রাণী দুটি মারা গেছে।” কুমিরের আক্রমণে বাঘটি আহত হতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি।


আরও পড়ুন - বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বাংলাদেশ কি ব্যর্থ হতে যাচ্ছে?


এর পাঁচ মাস আগে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলার কবরখালি খালের চর থেকে আরও একটি বাঘের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেটির পেছনের দুটি পা ছিল না। সুরতহাল ও প্রাথমিক ময়নাতদন্তের পর বন বিভাগ জানিয়েছিল বাঘটি কুমিরের আক্রমণে মারা গেছে। 

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

কুমিরের আক্রমণেই বাঘ দুটি মারা গেছে, বন কর্মকর্তাদের এমন দাবির পরিপেক্ষিতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাঘ বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল আজিজ। তারমতে, দুটি বাঘ একইভাবে মারা যাওয়া রহস্যজনক। বরং তাদের মতে শিকারিরা বাঘ ধরতে ফাঁদ ব্যবহার করছে কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।  

অধ্যাপক আজিজ বলেন, “বাঘ ‍দুটি কুমিরের আক্রমণের শিকার হলে শুধু পা থাকবে না কেন? শরীরের অন্যান্য স্থানেও ক্ষত থাকার কথা। কুমির শুধু বাঘের পা ধরবে এমনটি চিন্তা করা অযৌক্তিক। বরং এরচেয়ে ফাঁদে পড়ে পা হারানোর সম্ভাবনাই খুব বেশি।”

তিনি বলেন, “সাধারণত আমরা দেখেছি, সুন্দরবনে বাঘ শিকারের জন্য চোরা শিকারিরা বিষটোপ ও ছিটকা ফাঁদ ব্যবহার করে। যেহেতু বাঘ দুটি বিষটোপে মারা যায়নি এবং পা হারিয়েছে, তাই ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনাটাই বেশি।”


আরও পড়ুন -  আজ বিশ্ব বাঘ দিবস, বাঘ সম্পর্কে জেনে নিন কয়েকটি তথ্য 


ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিায়সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাঘ ধরতে ফাঁদের ব্যবহার হয় জানিয়ে অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেই বাঘ ধরতে ফাঁদের ব্যবহার খুব বেশি। এটি আমাদের দেশে ব্যবহার হচ্ছে না, তেমনটি নিশ্চিত হচ্ছি কী করে?” বরং তিনি বিষয়টিকে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। 

অন্যদিকে একই বিভাগের অপর একজন বাঘ বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান কোনো একটি ধারণা করার চেয়ে ফরেনসিক রিপোর্টকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। তিনি বলেন, “এখানে ফরেনসিক রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ। কুমিরের আক্রমণে বাঘের আহত হয়ে পরে মারা যাওয়া আর বয়স্কজনিত বা অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার আলামত একই রকম হবে না। তবে দুটি বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।” 

অধ্যাপক আবদুল আজিজের সন্দেহ পোষণের পরিপেক্ষিতে বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দো বলেন, “সুন্দরবনের খুলনা ও বাগেরহাট কার্যালয় থেকে পাওয়া প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমি কথা বলেছি। ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এসব বাঘের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

শিকারিরা ফাঁদ পেতে বাঘ ধরতে পারে, বিশেষজ্ঞদের এমন আশঙ্কার পরিপেক্ষিতে বন বিভাগ কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মিহির কুমার দো বলেন, “ফাঁদ পেতে বাঘ ধরার কোনো ঘটনা এখনও বন বিভাগের নজরে আসেনি। তবে বাঘ বিশেষজ্ঞরা যখন বিষয়টি তুলেছেন, বন বিভাগ অবশ্যই এটি গুরুত্বের সঙ্গে নেবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


আরও পড়ুন - বাঘ বেড়েছে সুন্দরবনে


আরও পড়ুন - সুন্দরবনের গহীনে ‘ক্ষুধায়’ বাঘের মৃত্যু

 

About

Popular Links