Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কুড়িগ্রামে বাড়িতে ঢুকে নারীদের ওপর পুলিশি হামলার অভিযোগ

জমি নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধের জেরে একপক্ষের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নারীদেরকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২০, ১০:২০ এএম

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামালগ্রাম এলাকায় জমি নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধের জেরে একপক্ষের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নারীদেরকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর প্রায় পনেরো কিলোমিটার হেঁটে এসে নির্যাতনের শিকার নারী ও পুরুষরা উপজেলা চত্বরে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন কবীরসহ পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানিয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে পুলিশি হামলার পর বিকালে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানায়, রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামালগ্রাম এলাকার মৃত ফজর আলীর স্ত্রী জামেলার সঙ্গে মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুল খালেকের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। বিরোধ মীমাংসার জন্য থানায় একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও তা নিরসন হয়নি। এরমধ্যে শুক্রবার দুপুরে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজনা নিরসনের চেষ্টা করে। 

এতে দুইপক্ষ সরে গেলেও কিছুক্ষণ পর ওসি রওশন কবীর আরও ফোর্স নিয়ে গিয়ে স্থানীয়দের ঘরের দরজা ভেঙে নারীদেরকে মারপিট করেন। এসময় পুলিশের টানা-হেঁচড়ায় নারীদের পোশাক ছিঁড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশের হামলায় আহত কয়েকজনকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে পুলিশ হাসপাতাল চত্বর থেকে ৮/৯ জনকে আটক করে থানায় নেয়।

এখবর এলাকায় পৌঁছালে শুক্রবার বিকালে ছেঁড়া পোশাকসহ, ঝাড়ু ও লাঠি নিয়ে ওসি রওশন কবীরসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা চত্বরে আসে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দামাল গ্রামে জমি নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধে প্রথমে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ আব্দুল খালেক ও তার পরিবারের পক্ষ নিয়ে বিপরীত পক্ষসহ নিরীহ এলাকাবাসীকে নির্বিচারে লাঠিপেটা করে। হামলায় আহত নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে গেলে পুলিশ তাদের চিকিৎসা নিতে না দিয়ে আটক করে থানায় নেয়। এলাকাবাসী প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করলে পুলিশ সেখানেও লাঠিচার্জ করে।

পুলিশের হামলায় আহত দামাল গ্রামের  জুলেখা বেগম বলেন, “তারা আমাকে আর আমার মেয়েকে পিটিয়েছে। আমার ছেলে এগিয়ে এসে আমার অসুস্থতার কথা বললে তারা তাকেও পিটিয়েছে। ওসি নিজেই লাঠি দিয়ে আমাদের পিটিয়েছে। এতে আমার হাতের হাড় ফেটে গেছে। চিকিৎসা নেতে গেলে আমাকে আটক করে পুলিশ। পরে সমঝোতার শর্তে রাতে ছেড়ে দেয়।”

রায়গঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ওয়ালিদ জানান, পুলিশ একপক্ষ নিয়ে নারীদের ওপর হামলা করেছে। পরে আহত নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে গেলে তাদের আটক করে থানায় নিয়েছে। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করলে পুলিশ আটকদের একরকম জিম্মি করে সমঝোতার শর্তে ছেড়ে দেয়।

এদিকে, নাগেশ্বরী থানার ওসি রওশন কবীর তার ও তার বাহিনীর সদস্যদের ওপর আরোপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধে দুইপক্ষের সংঘর্ষে ওই নারী-পুরুষ আহত হয়েছে। পুলিশ সংঘর্ষ নিরসনে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছে। আমার কাউকে আঘাত করার প্রশ্নই আসে না।”

পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, “উভয়পক্ষের হামলায় কয়েকজন নারী-পুরুষের আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে নারীদের ওপর পুলিশের হামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। এরপরও কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।”

About

Popular Links