Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পাবনায় বসতবাড়িতে অজগর সাপ!

‘ওই এলাকায় তো এই সাপ থাকার কথা নয়! নিশ্চয় বন্যার পানিতে ভেসে অথবা পাচারকারীদের হাত থেকে কোনোভাবে পালিয়ে গিয়েছিল এটি’

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২০, ১১:২৭ এএম

পাবনার বেড়া উপজেলায় যমুনা নদী পাড়ের একটি বসতবাড়ি থেকে অজগর সাপ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের পেঁচাকোলা গ্রামের বেলাল হোসেনের বাড়ি থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়। 

স্থানীয়রা জানান, চলতি বন্যায় হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের পেঁচাকোলা গ্রাম যমুনার পানিতে প্লাবিত হয়। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ স্থানের পানি নেমে গেছে। শুক্রবার সকালে গ্রামের বেলাল হোসেন বাড়ির ইটের গাদায় একটি বড় আকৃতির সাপ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুঁটে এসে সাপটি জীবিত অবস্থায় আটক করে। সাপটি ওজনে ১৩ কেজি আর লম্বা ১১ ফুট। তাৎক্ষণিক ভাবে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সাপটি এক নজর দেখার জন্য বেলাল হোসেনের বাড়িতে উৎসুক জনতার ঢল নামে। 

বেলাল হোসেনের ভাই ইউসুফ আলী বলেন, সাপটির কোনো ধরনের ক্ষতি না করেই বন বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের বাড়িতে উপস্থিত হন এবং বস্তাবন্দি অজগর সাপটি গ্রহণ করেন। 


আরও পড়ুন - ভাইরাল হওয়া প্রাণীটি চিতাবাঘ নয়, চিতা বিড়ালের বাচ্চা


বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রাজশাহীর বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, “অজগর শান্ত প্রকৃতির সাপ। মানুষের ক্ষতি করে না। সাপটির প্রতি সদরয় আচরণ করায় এলাকাবাসীর প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাপটি হয়তো বন্যার পানিতে ভেসে এসেছে।” 

পাবনা বিভাগীয় সামাজিক বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, “শুক্রবারই সাপটি সিরাজগঞ্জের ইকোপার্কে অবমুক্ত করা হয়েছে।” 

এদিকে পাবনায় অজগর পাওয়ার খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেন বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা। তিনি বলেন, “ওই এলাকায় তো এই সাপ থাকার কথা নয়! নিশ্চয় বন্যার পানিতে ভেসে অথবা পাচারকারীদের হাত থেকে কোনোভাবে পালিয়ে গিয়েছিল এটি।”


আরও পড়ুন - পাহাড়ি ঢলে বিপদগ্রস্ত ৯টি বন্যপ্রাণীকে পিটিয়ে হত্যা


তিনি বলেন, “অজগর (Rock Python) বা ময়াল সাপের এই প্রজাতিটি বার্মিজ অজগরের চেয়ে হালকা ও ছোট হয়। নির্বিষ এই সাপটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইদুর, ‍মুরগি, সাপ-কচ্ছপের ডিম, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। এটি তার আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে। সাপটি পেটভরে খেতে পারলে দুই বছর পর্যন্ত না খেয়েও থাকতে।”

জোহরা মিলা বলেন, “চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।”


আরও পড়ুন - ধলা বালিহাঁস ডিম পাড়বে তাই...


আরও পড়ুন - ৯৯৯ নম্বরে ফোন: প্রাণ বাঁচলো কিং কোবরার


About

Popular Links