Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তিস্তায় ভাঙন, খোলা আকাশই আশ্রয়

‘ভাঙন এলাকায় বোমা মেশিন বসিয়ে বালি তুলে সেই বালি দিয়ে জিও ব্যাগ ভরছে পানি উন্নয়ন বোর্ড’

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২০, ১২:১১ পিএম

“শুধু জীবনটা আছে। সহায় সম্বল নদীর ভাঙনে ও বানের জলে ভাসি গেছে। তিস্তার ভাঙনের ভয়ে সাতদিন ধরি চোখে ঘুম আসে না। হামার জায়গা জমিতো সবেই গেল, কোথায় যাব ছেলে মেয়ে নিয়ে। কোনো ভাববার পাওছো না বাবা”- কথাগুলো বলছিলেন নীলফামারী জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের ডাউয়াবাড়ী গ্রামের ভিটে মাটি হারা মাবিয়া বেগম (৪৬)। 

শুধু মাবিয়াই নয়, তার মতো আরও একই পরিণতি হয়েছে ভাঙনের শিকার শতাধিক পরিবারের। সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে তারা। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শৌলমারী গ্রামের হারাগাছ বান পাড়ার ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো তাদের ঘর বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। অনেকের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করছে। কেউ কেউ গাছ বা বাঁশ কেটে কোনোমতে ছাউনি দিয়ে তৈরি করছেন মাথা গোজার মত আশ্রয়। অনেকেই আবার গোখাদ্যের জন্য প্রয়োজনীয় খড়কুটো পালা করে রাখছেন উঁচুস্থানে।

ওই এলাকার নদী ভাঙনের শিকার কৃষক বাবুল হোসেন (৪৭) জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিস্তা নদীর ভাঙনে ছয়টি ঘর, বসতভিটা ও ১৪ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এভাবে ভাঙন বৃদ্ধি পেলে এই গ্রামের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে না। 

তিনি বলেন, ভাঙনে ডানতীর বাঁধ সংলগ্ন প্রায় ৪০ বছরের একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসাসহ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

একই এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, ফলে তিস্তার ডানতীর বাঁধ সংলগ্ন মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙছে। ভাঙনের শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হারিয়েছে কমপক্ষে ৪০-৫০ একর জমি।

ভাঙনের মুখে একটি বসতবাড়ি। ঢাকা ট্রিবিউন


শৌলমারী ইউনিয়নের বান পাড়ার বাসিন্দা ফয়জুল ইসলাম, এনামুল, সফিকুল ইসলাম ও দুলু মিয়া জানান, শুধু বানপাড়া নয় পার্শ্ববর্তী কিশামত, নোহালী, গোপালঝাড় এই তিন ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার ৭০০ একর জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার একর জমি হুমকির মুখে। মানুষ বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। সেই বেড়িবাঁধও ভাঙতে শুরু করেছে।

এলাকার পল্লী চিকিৎসক মমিনুর রহমান বলেন, “ভাঙনের বিষয়ে আগে থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্ত কোনো লাভ হয়নি। এ ব্যাপারে তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বানভাসিদের ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। পরে ভাঙনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এসে সামান্য কিছু জিও ব্যাগ ফেলতে দেখা যায়। তাও আবার ভাঙন এলাকায় বোমা মেশিন বসিয়ে বালি তুলে সেই বালি দিয়ে জিও ব্যাগ ভরছেন। এটি কতখানি যুক্তিসঙ্গত তা ওরাই ভাল জানে। কথা ছিল চর এলাকা থেকে বালি এনে ভাঙন এলাকায় ফেলবে।”

জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাণজিৎ কুমার পলাশ বলেন, ভাঙনের খবর পেয়ে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) সাথে নিয়ে ওই এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৮৩ পরিবারের নাম তালিকা করে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন পাঠিয়েছি। দ্রুত তাদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, “বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় নদীর তীব্র ভাঙনে ওইসব এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রক্ষার কাজ চলমান আছে। আর বানপাড়ায় ২৫০ মিটারে পাইলিং এর কাজ চলছে। স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য ঊর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি স্থায়ী সমাধান হবে।”

About

Popular Links