Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হবিগঞ্জের হাসপাতালে বাঁশেই ভরসা!

এক রোগীর আত্মীয় রহিম মিয়া জানান,  হাসপাতালটি নামেই আধুনিক। বাস্তবে কিছুই নেই

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২০, ০৫:৫৯ পিএম

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেডগুলোতে রোগীদের স্যালাইনের স্ট্যান্ড হিসেবে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হাসপাতালে আগত রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিক রোগী রয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও গাদাগাদি করে রোগীরা অবস্থান করছে। ময়লা ও দুর্গন্ধের কারণে রোগীর স্বজনদের নাক চেপে চলাচল করতে দেখো গেছে।  

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায় প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের বেডে স্যালাইন লাগানোর জন্য কোনো স্ট্যান্ড নেই। রোগীদের নিজ নিজ প্রয়োজনে বাঁশ বেডের সঙ্গে আটকিয়ে স্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করতে দেখো গেছে।

এ নিয়ে আব্দুল মুবিন মিজান নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে লেখেন, “আমি গতকাল (রবিাবর রাতে) আমার এক আত্মীয় (রোগীকে) নিয়ে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা জন্য গিয়েছিলাম। কর্তব্যরত ডাক্তার আমার রোগীকে দেখে হাসপাতালে ভর্তির করার জন্য পরামর্শ দিলেন। কী আর করার। রোগীকে নিয়ে গেলাম নিচতলায় মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করার জন্য।

আমার রোগী কে নিয়ে ওয়ার্ডে যাওয়ার সাথেসাথেই চোখে পড়ল বাঁশ। অধিকাংশ চিকিৎসাধীন রোগীর বেডের সাথে ঝোলানো আছে একটি করে দুই থেকে তিন হাত লম্বা বাঁশ। স্বাভাবিক ভাবে মনে প্রশ্ন জাগলো এই সব বাঁশের মানে কি?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমার বেশি সময় লাগল না। ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সেবিকা আমাকে বললেন, ভাই, আপনার রোগীকে দ্রুত স্যালাইন দিতে হবে। সাথে সাথে খুঁজতে শুরু করলাম স্যালাইন দেওয়ার স্যান্ড। কোথাও খুঁজিয়া পাইলাম না এই মহামূল্যবান জিনিসটি।”


হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেডগুলোতে রোগীদের স্যালাইনের স্ট্যান্ড হিসেবে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে


ফেসবুকে মিজান আরও লেখেন, “এই মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩০ জন। দুঃখজনক হলেও সত্য, এত সব রোগীর জন্য স্যালাইন দেওয়ার নেই কোনো স্যালাইনের স্ট্যান্ড। স্যালাইন দেওয়ার জন্য রোগীদের ভরসার মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করতে হচ্ছে বাঁশ অথবা জানালার লোহার গ্রিল।"

"শিশু ওয়ার্ডের চিত্রও প্রায় একই রকম। আমি হতাশা নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও হাসপাতালে একখানা স্ট্যান্ড বা বাঁশ পাইলাম না। পরে জানিতে পারিলাম, স্যালাইনে ব্যবহারিত বাঁশগুলো রোগীরা নিজেরাই সংগ্রহ করিয়া আনিয়াছে। আমি একটি বাঁশ একজন রোগীর কাছ থেকে ধার এনে আমার রোগীর স্যালাইন স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করিলাম। এই হল বর্তমানে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের হাল চিত্র! বি.দ্র. যাঁরা চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে যাবেন দয়া করে সাথে একখানা ২-৩ হাত লম্বা বাঁশ নিয়া যাবেন। বলাতো যায় না বাঁশের প্রয়োজন হতে পারে!”

সদর উপজেলার নিজামপুর থেকে আসা এক রোগীর আত্মীয় রহিম মিয়া বলেন, “আমাদের প্রয়োজনে স্ট্যান্ড হিসেবে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। বাঁশ না থাকলে রোগীর স্বজনরদের হাতে স্যালাইন নিয়ে বসে থাকতে হয়। এখানে শুধু নামেই আধুনিক। বাস্তবে কিছুই নেই।”

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শামীম আরা বলেন, “এখানে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে ১০০ শয্যার। আমার অনেক বেডের স্ট্যান্ড নষ্ট হয়ে গেছে। এর বিকল্প হিসেবে দু-একটিতে বাঁশ থাকতে পারে। তবে রোগীর স্বজনরা বাশঁ নিয়ে আসছে কথাটি মিথ্যা। আমরা চেষ্টা করছি নষ্ট হওয়া স্ট্যান্ড মেরামত করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, সোমবারও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে।

হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে নেই। আমি আপনার মাধ্যমে শুনলাম। অনেকটা সাময়িক কাজের জন্য হতে পারে। তবে বাঁশ দিয়ে কোনো সমাধান হতে পারে না। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।”   

About

Popular Links