Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১৩৫ বছরের পুরনো কুমিল্লা টাউন হল ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা

এর প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন ত্রিপুরা রাজপরিবারের সদস্য মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য বাহাদুর

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৪৬ পিএম

কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে অবস্থিত ১৩৫ বছরের পুরনো “বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন” ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি টাউনহল নামে পরিচিত। স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এই ভবনটির সঙ্গে জেলাবাসীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। ত্রিপুরা রাজপরিবারের স্মৃতি বহন করা এই ভবনটি ধ্বংস করে সেখানে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে প্রশাসন।

প্রস্তাবিত এই বহুতল ভবনে পাঠাগার, একাধিক মিলনায়তন, মুক্তমঞ্চ মহড়া কক্ষ, ড্রেসিং কক্ষ, ভিআইপি লাউঞ্জ, অতিথি কক্ষ, দ্বিতল গাড়ি পার্কিং, জনসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থানের প্রশস্ত রাস্তা, ক্যান্টিন এবং টাউন হলে অবস্থিত শহীদ মিনারটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আকর্ষণীয় করে পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। 

কুমিল্লা টাউন হল সংলগ্ন মাঠটিকে সংরক্ষণ করেই পরিকল্পনা ডিজিটাল অ্যানিমেশনে দেখানো হয়েছে। 

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কুমিল্লা-৬ (সদর, সিটি কর্পোরেশন ও ময়নামতি সেনানিবাস এলাকা) আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন কুমিল্লা টাউন হলের বর্তমান স্থাপনা ভেঙে নতুন করে বহুতল আধুনিক স্থাপনা করার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতেই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় গণপূর্ত বিভাগকে কুমিল্লা টাউন হল নিয়ে একটি নকশা করার জন্য বলে।

গত বুধবার দুপুরে এ নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও কুমিল্লা টাউন হলের সভাপতি মো. আবুল ফজল মীরের সভাপতিত্বে এক সভা হয়। 

সেখানে সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন, সিটি মেয়র মো. মনিরুল হক, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মো. আতাউর রহমান, ইতিহাসবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ফারুক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নীতিশ সাহাসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায়ই স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া বহুতল ভবন নির্মাণের নকশার ডিজিটাল অ্যানিমেশন উপস্থাপন করেন। 

সভায় অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি কুমিল্লা টাউন হল ভবনের ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী ঠিক রেখে বহুতল ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তনের স্থাপনা ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া বিষয়ে সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, “সাত বছর ধরে টাউন হলের আধুনিকায়ন নিয়ে কাজ করছি। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে। আশা করছি সুন্দর একটি স্থাপনা হবে। আর কুমিল্লার মানুষ আমাকে সহযোগিতা করলে দ্রুত এ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া যাবে।”

জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, “টাউন হল নিয়ে কুমিল্লাবাসীর মতামত আমরা সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।”

উল্লেখ্য, ১৮৮৫ সালের ৬ মে নগরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ের ৩ একর ৪৩ শতক জায়গা নিয়ে কুমিল্লা টাউন হল প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজপরিবারের সদস্য মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য বাহাদুর। দৃষ্টিনন্দন কারুকাজে ভবনটি নির্মিত। ১৯৩০ সালে এটি প্রথম সংস্কার করা হয়। ২০০২-০৩ সালে এটি পুনরায় সংস্কার করা হয়। 

কুমিল্লা টাউন হল ধন্য হয়েছে উপমহাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পদচারণায়। ভবনটি বয়ে চলছে- নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধী, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,  শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, ডক্টর সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেক বিশিষ্ট মানুষের স্মৃতি। কুমিল্লার আন্দোলন-সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু এই টাউন হল।


About

Popular Links