Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হত্যার পর সিনহাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর পরামর্শ ছিল এসপির!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, 'তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। এখন বিশ্লেষণ চলছে। ঘটনাটি কেন ঘটেছে, কীভাবে ঘটেছে এসব বিষয়ে আমাদের স্টাডি করতে হবে'

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০৫ পিএম

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অবসরপ্রাপ্ত মেজর রাশেদ মোহাম্মদ সিনহাকে হত্যার পর তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার পরিকল্পনা করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

সূত্র জানায়, এসপির পরামর্শেই টেকনাফের বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত হোসেন বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর)  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের হাতে ৮০ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে ৫৮৬ পৃষ্ঠার সংযুক্তিও জমা দেয়। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্ম না হয় সেজন্য প্রতিবেদনে ১৩টি সুপারিশ করেছে এ কমিটি-জানিয়েছে সূত্র।  

কমিটি সূত্র জানায়, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার সাহার নির্দেশেই মেজর সিনহাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন ওসির পক্ষ নিয়ে সিনহাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর পন্থা শিখিয়ে দেন। তদন্ত কমিটির সুপারিশে বলা হয়, পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ এলে পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এতে পুলিশের একপেশে তদন্ত নিয়ে মাঝেমধ্যে প্রশ্ন উঠে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তদন্ত নিয়ে অবিশ্বাস ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে তদন্ত চলাকালে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য পুলিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থা গঠন করা যেতে পারে।

এই কমিটি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে। এছাড়া পুলিশের অস্ত্র-গুলির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার আগে কমিটি কক্সবাজারের টেকনাফ, মেজর সিনহার ভিডিও ধারণের স্থল শাপলাপুর পাহাড়, কথিত বন্দকযুদ্ধের ঘটনাস্থল, কক্সবাজার হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে ৬৮ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ করে। 

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশমনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম সাজ্জাদ হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন। 

জানতে চাইলে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমাদের তদন্তে যা কিছু উঠে এসেছে তা মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে জমা দিয়েছি। আমাদের হাতে এখন আর কিছু নাই। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।” 

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, “তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। এখন বিশ্লেষণ চলছে। ঘটনাটি কেন ঘটেছে, কীভাবে ঘটেছে এসব বিষয়ে আমাদের স্টাডি করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীও তদন্ত করছে। সবকিছু সমন্বয় করা হবে।” 

সিনহা হত্যার পর পরই চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা শাপলাপুরের মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাধারণ মানুষ, পুলিশ চেকপোস্টের পাশে থাকা এপিবিএন চেকপোস্টের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদসহ সরেজমিনে তদন্ত করে কারণ ও উৎস খোঁজেন।

About

Popular Links