Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টিউবয়েলে নিজ থেকেই উঠছে পানি, গুজবে ভাসছে মানুষ (ভিডিও)

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের গরুড়া গ্রামের মহিদুল জানান, তার ও তার ছোটভাইয়ের রোগ থেকে মুক্তির জন্য পানি নিতে এসেছেন

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৫ পিএম

চার দিন ধরে টিউবয়েল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি বের হচ্ছে। আর ওই পানি পান করলেই মিলবে রোগমুক্তি, সারবে দুরারোগ্য ব্যধি করোনাভাইরাস, ক্যান্সারসহ নানা ধরনের জটিল ও কঠিন রোগ-এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই দূর-দূরান্ত থেকে পানি নিতে শত শত মানুষ ভীড় করে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের সাধু গুরু ভক্ত আনারুলের ফকিরের আস্তানায়।

জানা গেছে, ভবানীপুর গ্রামের মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে একটি বটগাছের নীচে আনোরুল ফকিরের আস্তানা। আর নদীর পাড়েই বসানো আছে টিউবয়েলটি। এটি দিয়েই চারদিন আগে  হঠাৎ পানি উঠতে শুরু হয়। তবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কর্তৃপক্ষের নির্দেশে টিউবওয়েলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

টিউবয়েলের মালিক আনারুল ফকির বলেন, “নিজ থেকেই পানি বের হওয়ার বিষয়টি মোবাইলে ভিডিও করে ফেসবুকে দেওয়ায় এখন লোকজন পানি নিতে আসছে। শিয়ালা গ্রামের একটি ছেলে এই পানি খেয়ে নাকি সুস্থ হয়েছে। তার মাধ্যমে রোগমুক্তির বিষয়টিও ছড়িয়ে পড়েছে। এখন মানুষ দলে দলে পানি নিতে আসছে।”

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সি নারী-পুরুষ ভীড় করেছে। কেউ বা পানি নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউবা ওখানেই পানি পান করছে। 

পানি নিতে আসা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের গরুড়া গ্রামের মহিদুল জানান, তার ও তার ছোটভায়ের গোপন রোগ মুক্তির জন্য পানি নিতে এসেছেন। বিভিন্ন ডাক্তার কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিয়েও তা ভাল হয়নি।

ভবানীপুরের হাবিবুর জানান, চোখে কম দেখেন তিনি। ওই পানি দিয়ে চোখ পরিস্কার করলে ভাল হবে, মনে করে তিনি পানি নিয়ে যাচ্ছেন। তবে কাউকে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।

কুঞ্জনগর গ্রামের জামে মসজিদের ঈমাম রমজান আলী জানান, এসব কুসংস্কার। রোগ ব্যধি ভাল করার জন্য মানুষ চিকিৎসা নিবেন। পানি পান করলে কোন রোগ ভাল হয় কিনা সেটি তার অজানা। 

এদিকে ঘটনাস্থলে বসেছে মেলা। এখানে খেলাধুলাসহ মেয়েদের প্রসাধনী ও চুড়ি দুল বিক্রয় করছে ফেরিওয়ালারা।

গাংনী থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুর রহমান জানান, ওই স্থানে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য নজরদারীতে রাখা হয়েছে। পুলিশ ক্যাম্পে জানানো হয়েছে ও সতর্ক করা হয়েছে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, “ওই টিউবয়েলের পানিতে রোগ সারবে কীভাবে তা বোধগম্য নয়। এটি প্রতারণার ফাঁদ মাত্র। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে পাঠানো হবে এবং টিউবয়েলটিকে বন্ধ করে দেওয়া হবে।” 

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম রিয়াজুল আলম বলেন, “টিউবওয়েলের পানি স্বাস্থ্যসম্মত কিনা পরীক্ষার পর বলা যাবে। এ পানিতে রোগ নিরাময় হবে এ ধরনের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং, এ পানিতে আর্সেনিক থাকতে পারে।” 

উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, যেহেতু টিউবওয়েলটি মাথাভাঙ্গা নদীর একেবারে পাড়ে তাই অতিবৃষ্টির কারণে পানির স্তর উপরে উঠে যায়। এ কারণেও কখনও কখনও চাপ ছাড়াই অনবরত পানি বের হয়। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। আবার গ্যাস থাকার কারণে চাপ বাড়লে পানি বের হতে পারে। 


About

Popular Links