Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের খবরে এক দিনেই দাম দ্বিগুণ

আমদানি বন্ধ করে দেওয়ায় ভারত অভ্যন্তরে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে ২৫০ পেঁয়াজবাহী ট্রাক

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০৬ পিএম

অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মুল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ভারত সরকার। এর একদিনের মাথায় দিনাজপুরের স্থলবন্দরের আড়তগুলোতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। গতকাল প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। খুচরাতে যা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

এদিকে আমদানি বন্ধ করে দেওয়ায় ভারত অভ্যন্তরে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে ২৫০ পেঁয়াজবাহী ট্রাক। অপরদিকে আরও ১০ হাজার টনের মতো এলসি পড়ে রয়েছে। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমদানিকারকরা। 

হিলি স্থলবন্দরের আড়ত থেকে পেঁয়াজ কিনতে আসা রফিকুল, সেলিম ও ফারুক বলেন, “গতকালই হিলি থেকে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে গেলাম ৩৪-৩৫ টাকা। একদিন পরেই আজ কিনতে এসে দেখি দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। যে পেঁয়াজের ছাল নেই পঁচে গেছে, সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫২ টাকা করে। আর একটু ভালোটা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। ৬০ টাকা দাম শুনে ঘর থেকে ঘুরে আসতেই তা বেড়ে ৬৫-৭০ টাকা হয়ে যাচ্ছে।” 

“আমরা মনে করছি সিন্ডিকেট করেই এসব পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে সিন্ডিকেট ছাড়া কিছু নয়। পেঁয়াজ যদি না থাকতো তাহলে তো হতো। কিন্তু তাদের কাছে তো পেঁয়াজ রয়েছে।”

হিলি বাজরে পেঁয়াজ কিনতে আসা নুরে আলম ও নজরুল ইসলাম বলেন, “গতকাল যে পেঁয়াজ ৩৫ টাকা দরে কিনে নিয়ে গেছি, পেঁয়াজ বন্ধ করে দিয়েছে শুনে বাজারে কিনতে এসে দাম শুনে আশ্চর্য হয়ে গেছি। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০ টাকা চাচ্ছে। আর একটু খারাপ ৬০ থেকে ৭০ টাকা। যে যার মতো পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে।”

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, সম্প্রতি দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিতিশীল অবস্থা ঘিরে ব্যাপক পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করে দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে আমদানিকাররা বেশ পরিমাণে এলসি খুলেছিল। কিন্তু ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়ার কারণে রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরে আটকা পড়েছে ২৫০ পেঁয়াজবাহী ট্রাক। অপরদিকে আরও ১০ হাজার টনের মতো এলসি পড়ে রয়েছে। যার কারণে আমরা ক্ষতির মধ্যে পড়েছি।” 

তিনি আরও বলেন, “আমরা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। অন্তত যেন যেসব পেঁয়াজ ট্রাকে লোড অবস্থায় রয়েছে সেগুলো যেন দেওয়া হয়। যেখানে আন্তর্জাতিক আমদানি রফতানিনীতি অনুযায়ী কোনো পণ্যের এলসি খুললেই ও এলসি রিসিভ করলেই পণ্য দিতে হবে। কিন্তু তারা প্রতিবছর এইভাবে হঠাৎ করে কোনো কিছু না জানিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।” 

“একই সাথে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দাম নাগালের মধ্যে রাখতে ইতোমধ্যেই আমরা পাকিস্তান, তুরস্ক, মায়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে এলসি খুলেছি। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ চলে আসবে তাতে করে দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।”

হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গতকাল কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। এ বিষয়ে আমরা তেমন কিছু জানিনা বা সরকারি পর্যায়ে তেমন কোন নির্দেশনা নেই। তবে আমরা যতটুকু জানি, যে ভারত সরকার সিন্ধান্ত নিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ রেখেছে। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সচরাচর গড়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বা তারও বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয় যা দিয়ে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলে। কিন্তু গতকাল সোমবার থেকে পেঁয়াজ আমদানি একেবারে বন্ধ রয়েছে।”

About

Popular Links