Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিদেশী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির দায়ে হাজতে অধ্যাপক

‘অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠণ করা হয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।’

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৭:২৬ পিএম

চতুর্থ বর্ষের  বিদেশী ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখানো ও আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জে বেসরকারি নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ তুহিনের বিরুদ্ধে।  ঘটনাটি জানার পর অধ্যাপককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

তবে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরও শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে লিখিত কোনও অভিযোগ না থাকায়, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারেনি পুলিশ। পরে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী সোমবার বিকেলে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ প্রভাষক তুহিনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর ওই চিকিৎসক শিক্ষককে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে নানা তদবির করা হয় বলে জানা গেছে। সংবাদমাধ্যমকর্মীরাও যাতে এ সম্পর্কে না জানতে পারেন, সেজন্য পুলিশ গোপনীয়তা অবলম্বন করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।  

থানায় মেডিকেল কলেজের লোকজনের আনাগোনা এবং শেষপর্যন্ত মামলা হওয়ার বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে গ্রেফতারের পর রাতেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত পরিদর্শক মোঃ মোস্তফা কামাল অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এ প্রসঙ্গে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (তদন্ত) আলী জাফর বলেন, “মেয়েটির সঙ্গে প্রনয় ঘটিত কোনও ঘটনার স্থির বা ভিডিও চিত্র একটি পেনড্রাইভে ছিল। সেটি ডাঃ তুহিনের কব্জায় ছিল। মেয়েটি সেটি উদ্ধারের জন্য বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে মেয়েটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানায়। এমনকি সহপাঠিরাও চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে পুলিশকে অভিযোগ দেন মেয়েটি।” 

চিকিৎসকের শুভাকাঙ্খীদের সাথে দেন-দরবারের বিষয়টি অস্বীকার করে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “ডা. তুহিন নর্থবেঙ্গল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক। ভুক্তভোগী ছাত্রী বিদেশী (নেপালি) এবং চতুর্থ বর্ষে পড়েন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে চিকিৎসককে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সেনসেটিভ হওয়ায় তা গোপন রাখা হয়। এটি নিয়ে রাষ্ট্রদুত অফিসেও যোগাযোগ করা হয়।” 

ওই শিক্ষার্থীর একাধিক নারী সহপাঠি জানিয়েছেন, ‘লেখাপড়ার সুবাদে ডা. তুহিন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি এবং ঘটনাটির ভিডিও ধারন করে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন।’

সম্প্রতি বিয়ের জন্য চাপ দিলে চিকিৎসক তুহিন বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ নিয়ে গত শুক্রবার দুপুরে দু'জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবারও ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ডা. তুহিনের  কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষকে জানান এবং সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ডা. তুহিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।’ 

এ প্রসঙ্গে নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. এস.এম আকরাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠণ করা হয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর এ বিষয়ে মামলা হওয়ায় পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে।” 

সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) নুরুল ইসলাম গড়িমশির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,  ঘটনাটি জানার পরপরই যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী বিদেশীনি জানার পর প্রথমে আমরাও বিষয়টি নিয়ে  হতবাক হয়ে পড়ি।”


About

Popular Links