Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিজ্ঞপ্তি: কুকুর অপসারণ বন্ধে ডিএসসিসি মেয়র ও প্রাণিকল্যান কর্মীদের মতবিনিময় সভা

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে কুকুর অপসারণ প্রসঙ্গে এবং নগরীর কুকুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে উপস্থিত প্রাণি ও পরিবেশবাদী সংগঠন ও গণ্যমান্য নাগরিকদের সাথে মত বিনিময় করেন ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩৩ পিএম

কুকুর অপসারণ বন্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং প্রাণি ও পরিবেশবাদী সংগঠনের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর কুকুর অপসারণ বন্ধের বিষয়ে প্রাণি ও পরিবেশবাদী সংগঠন ও গণ্যমান্য নাগরিকদের সাথে মতামত বিনিময় করেন ডিএসসিসি মেয়র।

এই সভায় উপস্থিত ছিলেন অভয়ারণ্য, প ফাউন্ডেশন, কেয়ার ফর পজ, স্টেলা ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ও ব্রতী ফাউন্ডেশনের প্রধানরা। এছাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের সমন্বয়ক ড. নীতিশ চন্দ্র দেব নাথ, অভিনেত্রী জয়া আহসান এবং ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান।

সভায় সবার পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির কুকুর অপসারণ প্রসঙ্গে এবং নগরীর কুকুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি গবেষণামূলক সচিত্র প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। কুকুর প্রসঙ্গে উত্থাপন করা সমস্যাগুলোর প্রকৃত চিত্র , কুকুর অপসারণ কেন অকার্যকর, এটি কিভাবে জনস্বাস্থ্যে হুমকি এবং এই সমস্যা ও সমাধান নিয়ে প্রতিবেশী তথা উন্নয়নশীল দেশগুলোর কার্যক্রমের উদাহরণ তুলে ধরা হয় এই সচিত্র প্রবন্ধে।

সেখানে আরও জানানো হয়, পৃথিবীর সব দেশে জলাতঙ্ক প্রতিরোধের দায়িত্ব প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হলেও বাংলাদেশে বাধ্য হয়ে এই দায়ভার নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের সমন্বয়ক  ড. নীতিশ চন্দ্র দেব নাথ এর আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশে যে ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক নির্মূলে জাতীয় কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে।

তার আলোচনায় আরও উঠে আসে যে ডিএসসিসি’র কুকুর অপসারণ কার্যক্রম শুধুমাত্র বাংলাদেশের আইন নয়, সমগ্র বিশ্বের জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচীর বিপরীতে অবস্থান নেয়। 

সবার বক্তব্য শেষে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, “উন্নত বিশ্বের কোনো শহরে কোনও জন্তু বা প্রাণি ঘুরে বেড়ায় না।”

পরে তিনি ঢাকাকে কুকুরমুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদী ও মানবিক উপায় কি কি হতে পারে এই বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এই আলোচনায় যেসব উপায় উঠে আসে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বন্ধ্যাত্বকরণ ও উন্মুক্ত বর্জ্য কমানো, টীকা দান কর্মসূচী হাতে নেয়া, অসুস্থ ও বয়স্ক কুকুর স্থানান্তর করা ও বাসাবাড়িতে দেশি কুকুর পালনে সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেয়া।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তির শেষভাগ ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবরে মত বিনিময় সভার আলোচনার বিষয়গুলো যেভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে তা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভ্রান্তিকর ধারণা দিচ্ছে।

মাননীয় মেয়র তরুণদেরকে আরও বেশি দেশি কুকুর পোষ্য হিশেবে নেয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। কিন্তু “শুধু বিস্কুট না খাইয়ে ঘরের ভিতর নিয়ে যান” এমন কটাক্ষ এবং অযাচিত মন্তব্য মাননীয় মেয়র করেননি। এদেশের প্রাণিকল্যান কর্মীরা দায়িত্ব নেয় না এটা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। গত দশ বছর ধরে প্রাণি কর্মীরা নিজ দায়িত্বে রাস্তার কুকুর ও অন্যান্য প্রাণিদের উদ্ধার করে নিজ খরচে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। সংগঠনগুলো কোনও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই ভেটেরিনারি ক্লিনিক করেছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মৃত প্রাণির দেহ তুলে নিয়ে কবর দিয়েছে। অথচ এটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। মেয়র মহোদয়ের সুচিন্তাকে প্রাণিপ্রেমিদের উদ্দেশে কটাক্ষ হিসেবে প্রকাশ না করে, ইতিবাচকভাবে প্রচার করলে দেশের মানুষকে দেশি প্রাণি পোষার ব্যাপারে আরও উদ্বুদ্ধ করতে সুবিধা হবে। এ সব কিছুই যথাযথ অবকাঠামো, সরকারি প্রণোদনা (যেমন- বাড়ির মালিকদের দেশি কুকুর পালনে উৎসাহিত করতে সিটি কর্পোরেশনের কর থেকে একটি অংশ মওকুফ করা যেতে পারে) নীতিমালা ও সামাজিক সচেতনতার উপর নির্ভর করে।

মাননীয় মেয়র অসুস্থ প্রাণিকে স্থানান্তর করার কথা বলেছেন। কিন্তু প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯ এবং দেশের বর্তমান নৈতিক অবস্থান অনুযায়ী কোন অসুস্থ প্রাণিকে মৃত্যুর জন্য কোথাও ফেলে আসা যাবে না। বরং প্রাণিটিকে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। বন্ধ্যাত্বকরণ করার ব্যাপারে তিনি আগ্রহ দেখিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি সবার পরামর্শ চেয়েছেন। উন্নত বিশ্বের প্রাণিদের বিকল্প আশ্রয়ের (শেল্টারের) কথা তিনি বলেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বিবেচনায়, এ ধরণের শেল্টার প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনা বাস্তবসম্মত নয়।

শহরের কোন প্রাণি নিয়ে কিভাবে কাজ করবেন, কিভাবে ব্যবস্থাপনা হবে তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য শুধুমাত্র প্রাণিকল্যাণ সংগঠনের সাথে আলোচনা যথেষ্ট নয়। এই বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপস্থিতিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা দরকার।

একই সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় জলাতংক নির্মূল কর্মসূচী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জলাতঙ্ক প্রতিরোধের যে নীতিমালা রয়েছে তা অনুসরণ করা, ২০১০ সালে জাতীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধের কর্মপরিকল্পনা তথা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জলাতঙ্ক নির্মূল কার্যক্রম জোরদার করবার লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে এফএও  এর সম্প্রতি হয়ে যাওয়া চুক্তি, ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ প্রকল্পের সাথে সমন্বয় ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর দেয়া বাঞ্ছনীয়।

এই সভার আলোচনা এবং গত কিছুদিনের কর্মকাণ্ড থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নগরে কুকুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ গবেষণা, তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি রয়েছে। এই বিষয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সাথে মত বিনিময় করার পর সিটি কর্পোরেশনের এই বিষয়ে যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কাজেই, সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে, আলোচনার ইতিবাচকতাকে প্রাধান্য দিয়ে ভ্রান্তিকর অভিব্যক্তি পরিহার করবার জন্য। 

উল্লেখ্য, ডিএসসিসি মেয়র এই সভায় চলমান কুকুর অপসারণ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে কোনও মৌখিক বা লিখিত বক্তব্য দেননি।  

About

Popular Links