Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তেজনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭

এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত শতাধিক রোহিঙ্গা

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ১১:১২ এএম

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ইয়াবা ও ক্যাম্প ভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাংলাদেশিরা  উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে ৭জন রোহিঙ্গা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একাধিক সূত্র জানায়, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে গড়ে উঠা দোকানপাট থেকে চাঁদা আদায়, মিয়ানমার থেকে নিয়ে আসা ইয়াবা ও নানা প্রকার মাদক বাণিজ্য, অস্ত্র বানিজ্য, সংগঠন ভিত্তিক এলাকা দখল নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত চলছে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা। উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশীরভাগ ক্যাম্প গুলোতে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত এক সপ্তাহে শুধুমাত্র উখিয়ার কুতুপালং ও লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে আসছে। দু’গ্রুপের এই সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ৭জন রোহিঙ্গা। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত শতাধিক রোহিঙ্গা।

উখিয়া থানার ওসি/তদন্ত গাজী সালাহউদ্দিনের দেয়া তথ্যমতে, গত ৪ অক্টোবর ২ জন, ৫ অক্টোবর ১ জন ও ৬ অক্টোবর ৪ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র দু’গ্রুপের মধ্যে এখনো উত্তেজন চলছে। তবে আইনশৃংখলা বাহিনী সজাগ থাকায় ক্যাম্পের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এঘটনায় কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ টেকনাফের চাকমারকুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রোহিঙ্গা জানায়, উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার আনাস গ্রুপ ও মুন্না গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এরই জের ধরে কুতুপালং ২ ওয়েস্ট ডি-ব্লকে ৪ ক্টোবর রাতে মুন্না গ্রুপের ৪/৫ শত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা দা-লাঠি সোটা নিয়ে ক্যাম্পের শতাধিক ঝুপরি ঘর ও ৫০ টি দোকান ভাংচুর করেছে। এ ঘটনায় আনাস গ্রুপ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং মুন্না গ্রুপের উপর চড়াও হয়। এভাবে গত সপ্তাহজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে সংঘর্ষ চলে আসছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে দুইগ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গোলাগুলির ঘটনা চলমান রয়েছে। এ কারণে প্রাণ বাঁচাতে কয়েকশ’ সাধারণ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু কুতুপালং ক্যাম্প ছেড়ে অন্য ক্যাম্পে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি জমিতে ৩৪টি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয় ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। আশ্রয় নেওয়ার পর এক বছর নিরবে রোহিঙ্গারা সময় অতিবাহিত করলেও যত দিন যাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধ বাড়ছে

About

Popular Links