Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উত্তেজনা বাড়ছে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে

মঙ্গলবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বর্তমানে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:৩৩ পিএম

সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে উত্তেজনা বাড়ছে।

ওই সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া অপর এক রোহিঙ্গা কিশোর বালক কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (৭ অক্টোবর) মারা গিয়েছে। নিহত শফিউল আলম (১৭) কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা জামাল হোসেনের ছেলে বলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে, উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মঙ্গলবার রাতে সন্ত্রাসীদের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলা-গুলিতে চার রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত এবং অন্তত ২০জন আহত হয়।

নিহতরা হলো, রোহিঙ্গা নেতা মুন্নার ভাই মোহাম্মদউল্লাহ ওরফে গিয়াস উদ্দিন ও মো. ফারুক, টেকনাফ উপজেলার হ্নেলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী এলাকার বাসিন্দা নুরুল বোশার দিলদার আহম্মদের ছেলে নুরুল বোশার এবং নুর হোসেনের ছেলে নুরুল হুদা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, ক্যাম্পগুলোর পরিস্থিতি শান্ত হলেও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য যৌথ অভিযান চলছে।

তবে সংঘর্ষের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই রোহিঙ্গাকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জুর মোর্শেদ। গ্রেফতার হওয়া দুই রোহিঙ্গা হলো, মাঝি কালা বোদা ও মোহাম্মাদ আলম। তারা দু’জনও কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

এদিকে, কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের ইনচার্জ খলিলুর রহমান জানান, তারা পাঁচজন রোহিঙ্গাসহ গত সোমবার অপহরণের শিকার হওয়া আটজনকে উদ্ধার করেছে। ক্যাম্পটির ই-ব্লকের দুজন রোহিঙ্গা এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

অপরদিকে, দু’জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করার অভিযোগ এনে উত্তেজিত রোহিঙ্গারা নয়াপাড়া এলাকায় বেশ কিছু সময় ধরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে রাখে।

সংঘর্ষের ঘটনার পরে চট্টগ্রাম পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন বুধবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ক্যাম্প ইনচার্জের অফিস কক্ষে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে মত বিনিময় করেন ডিআইজি আনোয়ার।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডিআইজি আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় ইতোমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়কারী ইন্টার সার্ভিস কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) সমন্বয়ক সৈয়কত বিশ্বাস জানান, সাধারণত এনজিওকর্মীদের বিকাল ৪টার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় থাকতে দেওয়া হয় না। তবে ক্যাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তার কারণে সবাইকে (এনজিও কর্মীদের) ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাসীদের হামলার ভয়ে প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গা কুতুপালনং ২ নম্বর পূর্ব ক্যাম্পের তাবলিগ জামায়াত মার্কাজে আশ্রয় নিয়েছিলেন। একই সময়ে প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা পরিবারকে লম্বালশিয়ার ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কুতুপালং ওয়ান স্টপ ক্যাম্পের ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান।

উল্লেখ্য, মিয়ানারের সরকারি বাহিনীর নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে প্রায় ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ মানবতা দেখিয়ে তাদের শরণার্থীদের আশ্রয় দিলেও রোহিঙ্গারা নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করার চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে পাঠাতে চাইলেও নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে নানা টাল-বাহানা করছে প্রতিবেশী দেশটি।

About

Popular Links