Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নারায়ণগঞ্জে দুই বোনকে ধর্ষণ করলো 'কেয়ারটেকার নানা'

এ ঘটনায় গ্রেফতার কেয়ারটেকার আবু বক্করকে নানা বলে ডাকতো ভুক্তভোগী দুই কিশোরী

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ০১:১৭ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আপন দুই বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে আবু বক্কর (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকা থেকে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন।

এর আগে ৫ অক্টোবর  সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকাতেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি। গ্রেফতার আবু বক্করের বাড়ি নোয়াখালীর সেনপাড়া উপজেলার দেবিসংহপুর গ্রামে। সে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর রাতে বাবার ওপর অভিমান করে সন্ধ্যায় খালার বাড়িতে যাচ্ছিল ভুক্তভোগী দুই কিশোরী। এ সময় আবু বক্কর পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে দুই বোনকে ডেকে তার বাসায় নিয়ে যায়।

পরে তাদেরকে ভয় দেখিয়ে মুখে গামছা বেধে ধর্ষণ করে সে এবং এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। দুইজনই বাসায় গিয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানালে ওই রাতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করতে যান তারা। কিন্তু সেখান থেকে তাদের পরের দিন আসতে বলা হয়।

এদিকে এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় স্থানীয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মনির ও রাসেল বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য আবু বক্করের বাড়ির মালিক জাহাঙ্গীরকে চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু এ নিয়ে তালবাহানা শুরু করে জাহাঙ্গীর। এক পর্যায়ে সোমবার স্থানীয় কয়েক যুবক বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ আবু বক্করকে গ্রেফতার করতে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে পৌঁছায়। এদিকে জাহাঙ্গীর অবস্থা বেগতিক দেখে তার ছয় তলা ভবনের একটি খালি ফ্ল্যাটে আবু বক্করকে লুকিয়ে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে যায় সে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টা করেও আবু বক্করের সন্ধান পায়নি পুলিশ। এক পর্যায়ে খালি ওই ফ্ল্যাটে আবু বক্করের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরে দরজা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ সদস্যরা।

কিশোরীদের বাবা জানান, “একই এলাকায় বসবাস করার সূত্রে আবু বক্করের সাথে পূর্ব পরিচয় ছিল। তাকে আমার দুই মেয়ে নানা বলে ডাকতো। এই কারণে সরল বিশ্বাসে তার বাসায় গিয়েছিল আমার দুই মেয়ে। ঘটনার দিন রাতেই আমি ভবনের মালিককে এ সম্পর্কে অবহিত করলেও কেউ কিছুই করে নাই।”

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মো. আলমগীর হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, "ভুক্তভোগী দুই কিশোরীর বয়স ১২ ও ১৪ বছর। ঘটনাটি ৫ অক্টোবর ঘটলেও ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় না এসে মান সম্মানের কথা চিন্তা করে বাড়িওয়ালার সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা করছিল। কিন্তু বাড়িওয়ালা সাহায্য না করায় গতকাল রাতে থানায় এসে অভিযোগ করেছেন তারা। আমাকে গতকাল রাতে থানা থেকে জানানো হলে আমি সাথে সাথে ফোর্স নিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, এই অভিযোগ নিয়ে আগেও থানায় আসার বিষয়টি তার জানা নেই।

About

Popular Links