Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১০ দিনেও অধরা এসআই আকবর

পালিয়ে যাবার সময় আকবর তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত ও সরকারি মোবাইল বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রেখে গেছে

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:১৫ পিএম

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভুইয়া গত ১০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি। এমনকি তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও স্পষ্ট হতে পারছে না আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে, আকবরকে গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার (২১ অক্টোবর) বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা শিগগিরই আকবরকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ(এসএমপি)-এর একাধিক সূত্র জানায়, ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যার তথ্য বেরিয়ে আসার পর গত ১২ অক্টোবর রাত থেকে পলাতক রয়েছে এসআই আকবর। পালিয়ে যাবার সময় তার ব্যবহৃত সরকারি ও নিজের মোবাইল বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রেখে গেছে। যে কারণে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছে না। তবে, তাকে খুঁজে বের করতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

রায়হান হত্যা মামলার তদন্তে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার খালেদ উজ্জামান এ প্রতিবেদককে জানান, তারা এ হত্যাকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছেন।  এর সাথে জড়িতরা যাতে কোন ভাবেই পার না পায়- সে জন্য পিবিআইয়ের টিম দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এ হত্যার ঘটনায় গত মঙ্গলবার বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।  

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সিলেট সফরের এক পর্যায়ে  পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সিলেটের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে মন্ত্রী এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও এস আই আকবরকে গ্রেফতারের তাগিদ দেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আকবর বিদেশে পালিয়ে গেলেও তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে, তার বিশ্বাস আকবর পালাতে পারেনি। 

বন্দরবাজার ফাঁড়ির সম্মুখে অবরোধ

সিলেটে পুলিশি নির্যাতনে রায়হান হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেফতার দাবিতে বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে অবরোধ করেছে ছাত্রজনতা। বুধবার দুপুরে তারা ফাঁড়ির সামনে রাস্তা অবরোধ করলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। 

এ সময় বাংলাদেশ ছাত্র যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ সিলেটের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিক্ষোভও করেন। তারা বলেন- ঘটনার ১০ দিন পরও কেন প্রধান সন্দেহভাজন এসআই আকবরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না? তারা জানান- এ ঘটনায় সব দোষীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

রায়হানের বাড়িতে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দল

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)-এর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে “পুলিশি নির্যাতনে” নিহত রায়হান আহমদের আখালিয়ার নেহারীপাড়াস্থ বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্তকারী দল। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি- (ক্রাইম অ্যানালাইসিস) ও তদন্ত কমিটির প্রধান মুহাম্মদ আয়ুবের নেতৃত্বে পুলিশ সদর দপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যবৃন্দ রায়হানের বাড়িতে যায়। তারা এসময় রায়হানের মা , তার স্ত্রীসহ অন্য স্বজনদের সাথে কথা বলেন।

পুলিশের এসআই আকবরকে পালিয়ে যেতে সহায়তকারীদের শনাক্তে গত ১৯ অক্টোবর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর। কমিটিকে ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। 

রায়হানের স্বজনদের সাথে কথা বলার পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তদন্ত দলের প্রধান এআইজি মুহাম্মদ আয়ুব সাংবাদিকদের জানান, এসআই আকবরের পালিয়ে যাওয়ার সাথে আর কেউ সংশ্লিষ্ট আছেন কি-না সে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তারা সিলেট এসেছেন। তদন্তের অংশ হিসেবেই তারা রায়হানের বাড়িতে এসেছেন এবং তার মা ও স্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। তিনি রায়হানের মা ও স্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন, এ ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য আছে কি-না। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রায়হান হত্যা সম্পর্কে তারা যে তথ্য পেয়েছেন তা’ এখনো জানানোর সময় আসেনি। তারা এ ব্যাপারে তাদের কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দল মঙ্গলবার রাতে সিলেটে এসে পৌঁছায়। বুধবার তারা সিলেটে অবস্থান করে মামলার বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন। 

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর রাতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন রায়হান আহমদ। পরদিন রবিবার সকালে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আকবরসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এদের মধ্যে কেবল টিটুকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আকবর ছাড়াও বাকিরা এসএমপি পুলিশ লাইন্সে পুলিশের নজরদারিতে আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।

About

Popular Links