Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হাইকোর্টের রায়: বাড়িতে থেকে মায়ের সেবাই আসামির শাস্তি

কারাগারের বদলে বাড়ি থাকতে আসামিকে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মাকে সেবা করার পাশাপাশি আরও দুটি শর্ত মানতে হবে। শর্ত ভাঙ্গলে প্রবেশন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ০৫:২৪ পিএম

মাদক মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত শরীয়তপুরের মতি মাতবরকে কারাগারে না পাঠিয়ে বাড়িতে প্রবেশনে পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রবিবার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এ রায় দেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে হাইকোর্টে প্রবেশন বিশেষ আইনে প্রথম রায়। রায়ে প্রবেশনের সুযোগ চেয়ে আনা আবেদন গ্রহণ করে আসামির রিভিশন পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। 

কারাগারের বদলে বাড়ি থাকতে আসামিকে যেসব শর্ত মানতে হবে সেগুলো হলো- ৭৫ বছরের বৃদ্ধ মায়ের যত্ন নিতে হবে, দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে হবে এবং আইন অনুসারে নির্ধারিত বয়সের আগে মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবেন না। আসামি তার দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন কিনা সেটি দেখভাল করবে সমাজ সেবা অধিদপ্তর। 

আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, “এ ধরনের আদেশ দেশের বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী ও নজিরবিহীন। দন্ডিতকে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অধীনে দেড় বছর প্রবেশনে থাকাকালীন উল্লেখিত তিনটি শর্ত পালন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আসামি মতি মাতবরের ৫ বছরের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিভিশন মামলার রায়ে আসামির সাজা বহাল রেখে প্রবেশন দেন। আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রবেশন অফিসার মো. আজিজুর রহমান মাসুদ। আদেশের পরপরই আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে তার তত্ত্বাবধানে দিয়ে দেওয়া হয়। শর্ত ভাঙ্গলে তার প্রবেশন বাতিল হবে।”

মামলার সূত্রে জানা যায়, মতি মাতবরের ৪৪১ পিস এবং অপর একজন আসামির কাছ থেকে ৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বরে ঢাকার কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে ২৪ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে চার্জশিট দাখিল করে। এই মামলায় ৮ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে যুগ্ম মহানগর হাকিম আদালত আসামিদের ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। মতি মাতবর ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর গ্রেফতারের পর দীর্ঘ ২০ মাস কারাভোগ করেন। ২০১৭ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন।

বিচারিক আদালতের রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে মহানগর দায়রা আদালতে ফৌজদারী আপিল করা হয়। ১১ মে ২০১৭ তারিখে আপিল শুনানি নিয়ে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। পরে আসামি মতি মাতবর ১ জুলাই ২০১৭ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন মামলাটি দায়ের করেন।

আইনজীবী শিশির মনির জানান, রিভিশনের শুনানিতে আসামিপক্ষে এ মামলায় প্রবেশন অধ্যাদেশ, ১৯৬০ এর ধারা ৫ অনুযায়ী আদেশ দেওয়া যেতে পারে বলে আর্জি পেশ করা হয়।

এ আইনজীবী জানান, যেহেতু তার এটিই প্রথম অপরাধ এবং আর কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো রেকর্ড নেই, তিনি ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ করবেন মর্মে ধারণা করার মতো কোনো তথ্যও নেই। সে কারণে তিনি প্রবেশন আইনে সুযোগ পেতে পারেন।

About

Popular Links