Thursday, June 13, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আগামী বছরের মার্চে ডাকসু নির্বাচনে আগ্রহী ঢাবি কর্তৃপক্ষ

‘নির্বাচনে যাওয়ার আগে ক্যাম্পাসে সব সংগঠনের সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৩৬ পিএম

ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে সফল আলোচনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১৯ সালের মার্চের ৩১ তারিখের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। ১৩টি সক্রিয় ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে এ ঘোষণা দেন।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ এই বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় সাড়ে তিনটা নাগাদ। বৈঠক শেষেও সাংবাদিকদের একই কথা বলেন উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মার্চ মাসের লক্ষ্যের কথা বললেও ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে সবচেয়ে সোচ্চার অবস্থানে থাকা বাম ছাত্র সংগঠনগুলো এ বছরের মধ্যেই নির্বাচন চেয়েছে।

অন্যদিকে ক্যাম্পাসের হলগুলোর কর্তৃত্বে থাকা ছাত্রলীগ এবং ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা ছাত্রদলের কাছ থেকে এসেছে একই রকম বক্তব্য। দুই দলই বলেছে যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন করার কথা। তবে ছাত্রদলের দাবি, নির্বাচনে যাওয়ার আগে ক্যাম্পাসে সব সংগঠনের সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। 

সাংবাদিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, “সব সক্রিয় ছাত্র সংগঠনের উপস্থিতিতে বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং ছাত্ররা এতে ঘণতান্ত্রিকভাবে অংশ নিয়েছে। এখানে দলীয় নেতারা বক্তব্য রেখেছেন, আমরা তাদের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” 

কবে নাগাদ ডাকসু নির্বাচন হতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে উপাচার্য বলেন, “বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বহুল প্রতিক্ষীত ডাকসু নির্বাচন আগামী বছরের মার্চের ৩১ তারিখ নাগাদ হতে পারে।” 

তিনি আরও জানান, “ভোটার তালিকার প্রক্রিয়া চলছে এবং আমরা আশা করছি ডাকসু সংবিধান অনুসারে অক্টোবরের মধ্যেই এর কাজ শেষ হবে।” 

নির্বাচনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সব দলের সহাবস্থান নিশ্চিত করার যে দাবি এসেছে, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপাচার্য বলেন, “হলের প্রভোস্টরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

এদিকে বৈঠক শেষে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, “ডাকসু নির্বাচনটা যেন যৌক্তিক সময়ে হয়, সে দাবি আমাদের থাকবে। অনেকে এ বছরের নভেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করার দাবি জানিয়েছে। আমরা বলেছি, আমরা কোনও সময় বেঁধে দেব না। কারণ এটি নির্দিষ্ট করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন যখন করতে চায়, তখনই আমরা নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছি।”

ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থানের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি হলে ছাত্রলীগের সংখ্যা ৩০ শতাংশ। এর বাইরে যারা আছে, তারা কিন্তু বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মী এবং সাধারণ ছাত্র। ক্যাম্পাসে সহাবস্থান অবশ্যই প্রয়োজন, তবে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র, শুধু তারাই ক্যাম্পাসে আসতে পারবে। যারা নিয়মিত ছাত্র নয় এবং যারা ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটাতে চাইবে তারা ক্যাম্পাসে থাকার কোনো অধিকার রাখে না।”

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, “যেহেতু এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম একটি অংশ, তাই ডাকসু নির্বাচন রাষ্ট্রীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন চাচ্ছি এবং এতে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত। তবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি যাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই নির্বাচন করা হয়।”


About

Popular Links