Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মৃত বাবাকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বানিয়ে ছেলের ভাতা উত্তোলন

অভিযুক্তের মা বিষয়টি জানতেন না

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২০, ০৯:১৪ পিএম

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন ৯০ বছরের বৃদ্ধা আম্বিয়া খাতুন। একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের আবেদন করেন। আবেদনটি যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, স্বামীর নামে নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন আম্বিয়া খাতুন। অথচ তিনি নিজেই ভাতার বিষয়টি জানতেন না। 

আম্বিয়া খাতুনের স্বামী আবদুল কাদের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের প্রেমু গ্রামে।

মৃত বাবার নাম ভাঙিয়ে এমন প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে আম্বিয়া খাতুনের ছেলে মো. শাহীনের বিরুদ্ধে। ১৯৯৬ সালের ২৮ আগস্ট মারা যাওয়া বাবাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে মায়ের অগোচরে শাহীন নিয়মিত ভাতা উত্তোলন করছেন। 

সোমবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের প্রেমু সুপার মার্কেটের সামনে শাহীনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন মা আম্বিয়া খাতুন, দুই ভাই ইয়াছিন ও ইব্রাহীম এবং চাচা আবদুল মালেকসহ পরিবারের লোকজন।

মানববন্ধনে ছেলের বিরুদ্ধে আম্বিয়া খাতুনের অভিযোগ, শাহীন একজন দুর্নীতিবাজ। সে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি করতো। তখন অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ সরবরাহ করে আসছে। নিজের স্ত্রীকে এক মুক্তিযোদ্ধার উত্তরাধিকার বানিয়ে টাকা উত্তোলন করেছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

অভিযুক্ত শাহীনের ভাতিজা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার দাদাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে শাহীন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আমার দাদিকে না জানিয়ে। তার প্রতারণার বিষয়ে অভিযোগ করলে শাহীন আমার পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এখন আবার তিনি নতুন করে মামলার হুমকি দিচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে আমরা এই প্রতারণা ও জালিয়াতির বিচার চাই।”

আম্বিয়া খাতুন বলেন, “আমার স্বামী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। ভাতা উত্তোলনের বিষয়েও আমি কিছু জানি না। শুনেছি আমার ছেলে শাহিন এমনটি করেছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিন বলেন, “আমাদের পরিবারে ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এর জেরে তারা আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে।”

এ ব্যাপারে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ময়নাল হোসেন বলেন, “আবদুল কাদের নামে এই এলাকায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। আমরা এই নামে কেউ চিনি না।”

About

Popular Links