Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্বেচ্ছায় দলে দলে ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গারা

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার অন্তত ১০টি বাস রোহিঙ্গাদের নিয়ে কক্সবাজার থেকে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে গিয়েছে

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:০৪ পিএম

অবশেষে স্বেচ্ছায় নোয়াখালীর ভাসানচরে যেতে চাওয়া কয়েকশ’ রোহিঙ্গা পরিবারকে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

এর আগে, জাতিসংঘসহ একাধিক মানবাধিকার সংগঠন সাইক্লোন ও বন্যার কারণে ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় সেখানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর বিষয়ে শংকা প্রকাশ করে আসছিলো। এক প্রতিবেদনে এখবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অব্যাহত হামলা, নিপীড়ন ও হত্যার কারণে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে থেকেই বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা। বর্তমানে তাদের সংখ্যা কমপক্ষে ১১ লাখ। 

এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ সরকার স্থানীয়ভাবে মাদক চোরাচালান ও উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর সাথে সম্পৃক্ততার আশংকায় ক্যাম্পগুলো সেখান থেকে দ্রুত সরিয়ে নিতে তৎপরতা চালাচ্ছিলো। তবে অন্যদিকে, বেশিরভাগ রোহিঙ্গা তাদের জীবনের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত না করে ভাসানচরে স্থানান্তরিত হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলো না।   

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার অন্তত ১০টি বাস রোহিঙ্গাদের নিয়ে কক্সবাজার থেকে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে গিয়েছে। 

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সনজুর মোরশেদ এএফপি’কে বলেন, “প্রায় ৪শ’ রেহিঙ্গাকে নিয়ে ১০টি বাস ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দিয়ে দিয়েছে।”

তিনি জানান, চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুক্রবার তাদেরকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে। 

এর আগে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এএফপি’কে জানিয়েছিলেন, প্রথমধাপে অন্তত ২,৫০০ জনকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

ঘটনাস্থলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর সামনে একাধিক বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে, বাসগুলোতে ঠিক কতজন বহন করা হচ্ছে সেবিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যদিও, অধিকার সংগঠনগুলো রোহিঙ্গাদের জোর করে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিলো।

ভাসানচরের আয়তন প্রায় ১৩,০০০ একর বা ৫২ বর্গ কিলোমিটার। দ্বীপটি সাম্প্রতিক দশকগুলিতে এই অঞ্চলে গড়ে ওঠা  বেশ কয়েকটি পলিমাটির বৃহৎ খণ্ডের  মধ্যে একটি।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী সেখানে কমপক্ষে ১ লাখ রোহিঙ্গার জন্য প্রায় তিন মিটার উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। বন্যা থেকে সুরক্ষা দিতেই এভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়রা জানায়, এই অঞ্চলে নিয়মিত সাইক্লোন আঘাত হানে এবং সেগুলোর উচ্চতা প্রায় চারে থেকে পাঁচ মিটার পর্যন্ত হয়।

এদিকে, জাতিসংঘ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়টি সম্পর্কে তারা “অবগত ছিলো না” এবং তাদেরকে বিষয়টি সম্পর্কে “খুব সীমিত তথ্য” দেওয়া হয়েছে। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বসবাসের জায়গা হিসাবে দ্বীপটির "সুরক্ষা, সম্ভাব্যতা ও স্থায়িত্ব" বিষয়ে জাতিসংঘকে স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

About

Popular Links