Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সিলেটে গণধর্ষণ: সাইফুরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

‘হোস্টেল বন্ধ থাকার পরও হোস্টেলে ছাত্রদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কলেজ প্রতিনিধিকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাবার কারণে পুলিশের পৌঁছতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে’

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:৩৮ পিএম

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি সাইফুরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আবুল কাশেমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। 

পরে দুপুরে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত তথ্য সাংবাদিকদের জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-কমিশনার সোহেল রেজা। 

প্রধান আসামি মো. সাইফুর রহমান (২৮) ছাড়া চার্জশিটভুক্ত অপর আসামিরা হচ্ছে- হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৫), কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), মো. আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) ও মিজবাউল ইসলাম রাজন (২৭)। 

আসামিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(৩)/৭/৩০ ধারায় দাখিল করা হয় চার্জশিট। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৯ পাতার এ চার্জশিটে ১৭টি পৃষ্ঠা রয়েছে। ঘটনার ফরেনসিক রিপোর্ট, মেডিকেল রিপোর্ট ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে দাখিল করা হয়েছে চার্জশিটে। বিশেষজ্ঞসহ চার্জশিটে সাক্ষী রাখা হয়েছে ৫২ জন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বাবলা চৌধুরী এবং হোস্টেলে অবস্থানকারী হৃদয় নামের এক ছাত্রকেও রাখা হয়েছে সাক্ষী হিসেবে।


আরও পড়ুন - এমসি কলেজে গণধর্ষণ: ভারতে পালাচ্ছিল আসামি সাইফুর ও অর্জুন


আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে এসএমপির নির্লিপ্ত থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সোহেল রেজা বলেন, সব আসামিদেরই আমরা আইডেনটিফাই (চিহ্নিত) করেছি। বাংলাদেশ পুলিশ একটি ইউনিট হিসেবে কাজ করে। এ হিসেবে আমরা সিলেট রেঞ্জ এবং র‌্যাবের সহযোগিতা নিয়েছি। আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি সিলেট রেঞ্জের ডিআইজির সাথে একদিন ১৯ বার এবং র‌্যাবে সিইও’র সাথে কথা বলেছেন। 

এ ধর্ষণের ঘটনার সাথে আসামি- সাইফুর রহমান, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, মো. রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান মাসুমের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল। আর ধর্ষণে সহযোগিতার জন্য আসামি করা হয়েছে মো. আইনুদ্দিন ও মিসবাউল ইসলাম রাজনকে। 

চার্জশিটে কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চার্জশিটের সাথে এটার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে, হোস্টেল বন্ধ থাকার পরও হোস্টেলে ছাত্রদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কলেজ প্রতিনিধিকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাবার কারণে পুলিশের পৌঁছতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।”

সোহেল রেজা জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর অনুমান সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে এক দম্পতিকে কতিপয় সন্ত্রাসী জোরপূর্বক প্রাইভেটকারসহ এমসি কলেজ গেইট হতে কলেজ ছাত্রাবাসের ৭ নং ব্লকের ৫ম তলা বিল্ডিংয়ের সামনে নিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা গৃহবধূকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে এবং তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও নগদ দুই হাজার হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। 

ওই রাতেই নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে এসএমপির শাহপরান থানায় সাইফুর, রনি, তারেক, অর্জুন, রবিউল ও মাসুমের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামল দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও ঘটনার ৩ দিনের মধ্যে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে এজাহারভুক্ত ৬ আসামি ছাড়াও সন্দেহভাজন আসামি মিসবাউর রহমান রাজন ও আইনুদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কোনো পদে না থাকলেও গ্রেফতার হওয়া সকলেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। 


আরও পড়ুন - চুল-দাড়ি কেটে ভোল পাল্টাতে চেয়েছিল তারেক!


গ্রেফতারের পর তাদের প্রত্যেককে ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে সকলেই ধর্ষণের দায় স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালেত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এদিকে, ধর্ষণের রাতে এমসি কলেজে ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের দখলে থাকা কক্ষে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইফুরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে। সেই মামলায় গত ২২ নভেম্বর সাইফুর ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে অভিযুক্ত করে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯/১৯-এ ধারায় চার্জশিট দাখিল করে। এছাড়া আদালতের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে গণধর্ষণের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও মহি উদ্দিন শামীম সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। 

গণধর্ষণের এ ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে ২৬ অক্টোবর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে প্রতিবেদনটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।  

ঘটনায় জড়িত চার আসামির ছাত্রত্ব এবং সার্টিফিকেট বাতিল করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি তাদের স্থায়ীভাবে এমসি কলেজ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন- সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাসুম ও রবিউল হাসান।

এর আগে ঘটনার কয়েকদিন পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গণধর্ষণের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি এমসি কলেজে তদন্ত করতে আসে। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

About

Popular Links