Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘মহাবিপন্ন’ শকুনটিকে ধরে পেটাচ্ছিল শিশুরা

‘পৃথিবীতে দ্রুততম বিলুপ্ত হতে চলা প্রাণী শকুন। তাই শকুনমাত্রই বিশ্বে “মহাবিপন্ন”। বাংলাদেশে শকুনের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আইইউসিএনের হিসেবে বাংলাদেশে মাত্র ২৬৮টি শকুন রয়েছে’

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:০০ পিএম

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা থেকে একটি হিমালয়ী শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার রামপুরা এলাকা থেকে শকুনটিকে উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শকুন উদ্ধারকারী বগুড়া শেখ আজিজুল হক কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম জানান, বিকেলে আমার এক বন্ধুর কাছে খবর পাই গ্রামের বাচ্চারা একটি শকুন দঁড়িতে বেঁধে খেলার ছলে মারধর করছে। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শকুনটিকে হেফাজতে নিয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোন করি। 

আশরাফুল আলম বলেন, “শকুনটি ইউএনও স্যার ফরেস্ট অফিসে নিয়ে গেছেন। তিনি পাখিটির জন্য প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থাও করেছেন।” 


আরও পড়ুন - মুন্সীগঞ্জে ‘বাঘের’ ঘোরাফেরা, আসল রহস্য কী?


এদিকে, খবর পেয়ে শকুনটিকে উদ্ধারে রামপুরা ছুটে যান ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এফ এম আবু সুফিয়ান। ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, খবর পেয়ে প্রাণী সম্পদ অফিসের একটি দলসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে শকুনটিকে উদ্ধার হয়েছে।  

তিনি বলেন, “বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তারা আসলে শকুনটিকে হস্তান্তর করা হবে।”

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের বগুড়া অঞ্চলের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “শকুনটির বিষয়ে খবর পেয়েছি। এটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।”

এদিকে, পরিচয় নিশ্চিত হতে ঢাকা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে শকুনটির ছবি পাঠানো হয় বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলার কাছে। তিনি এই প্রজাতিটিকে হিমালয়ী শকুন (Himalayan Griffon) বা “হিমালয়ান গৃধিনী” বলে চিহ্নিত করেন। তার ধারণা, পরিযায়নের পথে শকুনটি অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে। 


আরও পড়ুন - বন বিভাগের সহযোগিতায় হাতি হত্যার অভিযোগ


তিনি বলেন, “পৃথিবীতে দ্রুততম বিলুপ্ত হতে চলা প্রাণী শকুন। তাই শকুনমাত্রই বিশ্বে ‘মহাবিপন্ন’ (Critically Endangered)। বাংলাদেশে শকুনের পরিস্থিতি খুবই খারাপ।  আইইউসিএনের হিসেবে বাংলাদেশে মাত্র ২৬৮টি শকুন রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেনের ব্যবহার, খাদ্য সংকট এবং বাসস্থান সংকটসহ নানা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত এই পাখিটি হারিয়ে যাচ্ছে। শকুন বিলুপ্ত হয়ে গেলে সুন্দর একটি পাখি হারানো পাশাপাশি দেশের মানুষ অ্যানথ্রাক্স, জলাতঙ্কসহ পশু হতে সংক্রামক রোগের ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে। বন বিভাগসহ আইইউসিএন শকুন রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাখিটির প্রতি আমাদের সদয় হওয়া খুবই প্রয়োজন।”


আরও পড়ুন - শকুন সংরক্ষণে বাংলাদেশ, কী করছে সরকার?


আরও পড়ুন - পাচারকালে আবারও বনরুই উদ্ধার!

About

Popular Links