Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঢাকা থেকে বিবাহিত সুখী দম্পতিকে ‘উদ্ধার’ করেছে সিআইডি!

ওই নারী চিকিৎসক বলেন, ‘আমাকে অপহরণ করা হয়নি। আমার নতুন স্বামী, যিনি পেশায় একজন নাপিত, আমি তাকে নিয়ে সুখে আছি’

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:০৯ পিএম

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (গাইনি) ডা. আয়েশা সিদ্দিকা মিতু ঢাকায় তার স্বামী ও ছেলে সন্তান নিয়ে সুখে জীবনযাপন করছিলেন।

পেশায় নাপিত রফিকুল ইসলাম ওরফে বাপ্পির প্রেমে পড়ার পরে এই ৩৪ বছর বয়সী এই চিকিৎসক তার প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়েছিলেন এবং ২১ মাস আগে বাপ্পিকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। 

তবে এই বিয়ে মিতুর পরিবারের অনুমোদন পাবে না বুঝতে পেরে তিনি গত বছরের শুরুতে বাপ্পির সাথে রংপুর থেকে পালিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে আসেন এবং সেখানেই বাসা ভাড়া নিয়ে নতুন জীবন শুরু করেন। 

তবে গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিবাহিত এই সুখী দম্পতির মধ্যে ডা. মিতুকে “উদ্ধার” এবং তার স্বামী বাপ্পিকে মোহাম্মদপুর থেকে আটক করে রংপুর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি)। 

পুলিশের দাবি, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে মিতুর বাবা আবদুল গাফফার তার মেয়ে মিতুকে অপহরণের অভিযোগ তুলে বাপ্পির বিরুদ্ধে রংপুরের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নগরীর কেরানীপাড়া এলাকায় অবস্থিত সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ খবর জানান রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস। 

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির পুলিশ সুপার জানান, গত বছরের মার্চ মাসে রংপুর নগরীর ব্যবসায়ী আব্দুল গফুরের মেয়ে গাইনি চিকিৎসক ডা. আয়েশা ছিদ্দিকা মিতু (৩৪) অপহৃত হয়। তার বাবা রংপুরের কোতয়ালী থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, নগরীর আলমনগর কলোনীর নাপিত রফিকুল ইসলাম ওরফে বাপ্পি তার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। 

এ ঘটনায় দীর্ঘদিন পুলিশ চেষ্টা করেও অপহৃত চিকিৎসক মিতুকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। সিআইডি পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইউনুছ দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ডা. মিতুকে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার চাঁনমিয়া হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে উদ্ধার করে। এ সময় বাপ্পিকে গ্রেফতার করা হয়। 

সিআইডির পুলিশ সুপার জানান, গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মিতু এর আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বাপ্পির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তার আগের স্বামীর ঘরের একটি পুত্র সন্তান এবং বাপ্পির ঘরে একটি সন্তান রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে, তারা জানিয়েছে, অনেক দিন আগেই বিয়ে করে সংসার করে আসছিল। যেহেতু অপহরণ মামলা হয়েছে, সে কারণে তাদের উদ্ধার করে আদালতে পাঠানো হবে। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সিআইডি পুলিশ সুপার জানান, চিকিৎসক মিতুর সাথে ৮-৯ বছর ধরে বাপ্পির সাথে প্রেমের সম্পর্ক। এর আগেও একবার তারা দুজনে পালিয়ে গিয়েছিল। অনেক বুঝিয়ে তাকে বাড়িতে আনা হলেও আবারও তারা পালিয়ে যায়। বাপ্পি পেশায় নাপিত হলেও সে মিতুর বাবার ব্যবসায় ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করত। গত ২১ মাস ধরে ডা. মিতু মোহাম্মদপুরে চেম্বার দিয়ে সেখানে রোগী দেখত। সে যা রোজগার করতো তাই দিয়ে বাসা ভাড়াসহ তাদের সংসার খরচ চলত বলে মিতু জানিয়েছে।

এদিকে, সিআইডির সংবাদ সম্মেলনে, ডা. মিতু সাংবাদিকদের জানান, নতুন পরিবার শুরু করতে তিনি স্বেচ্ছায় পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাকে অপহরণ করা হয়নি।  

তিনি বলেন, “আমাকে অপহরণ করা হয়নি। আমার নতুন স্বামী, যিনি পেশায় একজন নাপিত, আমি তাকে নিয়ে সুখে আছি। বিয়ে করে আমরা ২১ মাস সংসার করছি। আমাদের একটি ছেলেও আছে। তবে বাবা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন।”

About

Popular Links