Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বগুড়ায় এয়ারগানের গুলিতে আহত ঈগল উদ্ধার

‘মেটে মাথা কুড়া ঈগলটির ডানায় একটি বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন আছে। কোনো পাখি শিকারি বা মাছের ঘেরের ব্যবসায়ী “এয়ার গান” দিয়ে পাখিটিকে গুলি করেছে’

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২১, ১০:৩৯ পিএম

এয়ারগানের গুলিতে আহত একটি মেটে মাথা কুড়া ঈগল বা মেছো ঈগল উদ্ধার করেছে বগুড়াভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন “তীর”। 

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন “Team for Energy and Environmental Research (TEER)” এর সদস্যরা আহত ঈগলটিকে উদ্ধার করে।  

তীর কর্মীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে কাহালু উপজেলার দরগাহাট থেকে বার্ড ক্লাব বগুড়ার সভাপতি ফটোগ্রাফার তৌহিদ পারভেজ বিপ্লবের কাছে আহত একটি মেটে মাথা কুড়া ঈগলের খবর আসতে তিনি পাখিটিকে উদ্ধার করে নিজের তত্ত্বাবধানে রাখেন। পরে তার দেওয়া তীরের সহ-প্রচার সম্পাদক মো. রিফাত হাসান ও সদস্য সাব্বির আহমেদ শাকিল বগুড়ায় কাহালু উপজেলার দরগাহাট পৌঁছালে তৌহিদ পারভেজ বিপ্লব পাখিটিকে তীর কর্মীদের কাছে হস্তান্তর করেন।


আরও পড়ুন - বনের পথে দ্রুতগতির গাড়ি, প্রাণ গেল ‘বিপন্ন’ বাঘডাশের


তীরের সভাপতি মো. আরাফাত রহমান বলেন, “মেটে মাথা কুড়া ঈগলটির ডানায় একটি বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন আছে। ধারণা করছি, কোনো পাখি শিকারি বা মাছের ঘেরের ব্যবসায়ী ‘এয়ার গান’ দিয়ে পাখিটিকে গুলি করেছে।”

তিনি বলেন, সরকারি আজিজুল হক কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. আরিফুর রহমান ও একজন ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শক্রমে মেটে মাথা কুড়া ঈগলটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। পাখিটি সুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্তু তীরের পরিচর্যায় থাকবে। 

প্রসঙ্গত, ২০১১ সাল থেকে তীর উত্তরাঞ্চলে বন্যপ্রাণী, পাখি পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করছে। পাশাপাশি এয়ার গান নিষিদ্ধের জোর দাবি জানিয়ে আসছে সংগঠনটি। 


আরও পড়ুন - ‘মহাবিপন্ন’ শকুনটিকে ধরে পেটাচ্ছিল শিশুরা 


বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “টাঙ্গুয়ার হাওর মেটে মাথা কুড়া ঈগলের (Grey headed Fish Eagle) বা মেছো ঈগলের মূল বিচরণক্ষেত্র। তবে সুন্দরবন ও উপকূল অঞ্চলেও সীমিত পরিসরে এদেরকে দেখা যায়। সাধারণত মিঠা পানির জলাধারের আশেপাশে এরা জোড়া ধরে বাস করে। বছরের পর বছর একই গাছে বাসা বাঁধে। পাখিটি অত্যন্ত দক্ষ শিকারি; প্রধানত মাছ খায়, তবে সাপ, ছোট পাখি, খরগোশও এর খাদ্য তালিকায় রয়েছে। মিঠা পানির জলাধার তথা বিচরণস্থল কমে যাওয়া, অতিরিক্ত মাছ আহরণের কারণে পাখিটি যে ধরনের মাছ খায় তা হ্রাস, পানি দূষণ, কচুরিপানার বিস্তার, আবাসযোগ্য বনভূমি উজার ইত্যাদি কারণে পাখিটির সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।”  

তিনি বলেন, “বার্ড লাইফ ইন্টারন্যাশনালের ২০১৪ সালের এর জরিপ অনুযায়ী সারা বিশ্বে এদের সংখ্যা মাত্র ১৫ হাজার থেকে দেড় লাখের মধ্যে। তবে বাংলাদেশে এর প্রকৃত সংখ্যা এখনও অজানা। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) ২০১৫ সালের ‘রেড লিস্ট’ অনুযায়ী প্রজাতিটি সারাবিশ্বসহ বাংলাদেশেও প্রায় সংকটাপন্ন। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এটি শিকার, হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।”


আরও পড়ুন - খরগোশ শিকারিদের হাতে প্রাণ গেল মেছোবাঘের


আরও পড়ুন - দিনভর বাঘের আতঙ্ক, পরে জানা গেল বন বিড়াল


আরও পড়ুন - মুন্সীগঞ্জে মেছো বিড়াল আটক, বন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মুক্ত


আরও পড়ুন - রাজশাহীর পদ্মার চরাঞ্চলে ৪১ প্রজাতির পাখি শনাক্ত

About

Popular Links