Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইউনিসেফ: আরো এক বছর স্কুল বন্ধের ক্ষতি শিশুরা বইতে পারবে না

স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সংক্রমণের ঝুঁকি নিরূপণ মূল নির্ধারক হওয়া উচিত, বলে মন্তব্য করেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর।

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:৪৯ এএম

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে স্কুলের কার্যক্রম আরও এক বছর ব্যাহত হলে সে ক্ষতির ভার শিশুরা বইতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা যেহেতু কোভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় বছরে প্রবেশ করেছি এবং বিশ্বজুড়ে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, তাই স্কুলগুলো খোলা রাখতে বা পুনরায় খোলার পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দিতে কোনো প্রচেষ্টাই বাদ দেয়া উচিত হবে না।”

তিনি জানান, মহামারির চূড়ান্ত পর্যায়ে লকডাউনের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে স্কুলগামী শিশুদের এক তৃতীয়াংশই দূরশিক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে স্কুলগুলো বন্ধ রাখায় সর্বোপরি শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে যা বিপর্যয় নিয়ে এসেছে।

“স্কুলের বাইরে থাকা শিশুর সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ বৃদ্ধি পেতে চলেছে। এটি এমন মাত্রায় বাড়ছে যা আমরা বিগত অনেক বছরেও দেখিনি। আথচ এটি কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা কঠোর লড়াই করেছি,” বলেন তিনি।

হেনরিয়েটা ফোর উল্লেখ করেন যে শিশুদের পড়া, লেখা ও প্রাথমিক গাণিতিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতিতে সাফল্য অর্জনে যে দক্ষতার প্রয়োজন তা হ্রাস পেয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য, বিকাশ, নিরাপত্তা এবং সার্বিক কল্যাণের বিষয়টি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের ওপর ক্ষতির পরিমাণ হবে সর্বাধিক।

তিনি আরো বলেন, “স্কুল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সমবয়সীদের সঙ্গে প্রতিদিনের যোগাযোগের অভাব এবং চলাফেরা কমে যাওয়ায় শিশুরা শারীরিক সুস্থতা হারাচ্ছে এবং তাদের মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। স্কুলগুলো প্রায়শই যে সুরক্ষা বেষ্টনী নিশ্চিত করে তা না থাকলে শিশুদের নির্যাতন, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের শিকার হওয়ার ঝুঁকি আরো বাড়বে।” 

এ কারণেই অন্য সব বিকল্প বিবেচনা করার পরেই সর্বশেষ উপায় হিসেবেই স্কুলগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সংক্রমণের ঝুঁকি নিরূপণ মূল নির্ধারক হওয়া উচিত জানিয়ে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক বলেন, “যেসব স্থানে উচ্চ মাত্রায় কমিউনিটি সংক্রমণ রয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চরম চাপের মধ্যে রয়েছে এবং যেখানে স্কুল বন্ধ রাখা অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়, সেসব স্থানে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত।”

যদি আরও এক বছর শিশুদের স্কুল বন্ধ থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় তবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার ফল ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করে দেন হেনরিয়েটা ফোর। 

About

Popular Links