Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘শাস্তি’ হিসেবে বই দিল সুনামগঞ্জ আদালত

৩৫টি মামলায় রায়ে ৪৯ জন শিশুকে কারাদণ্ডের বদলে বই উপহার দেন আদালত

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২১, ০৬:৩৮ পিএম

সুনামগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একসঙ্গে ৩৫টি মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। এই রায়ে ৪৯ জন শিশু অভিযুক্তকে সাজার পরিবর্তে সুন্দর জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন। 

বুধবার (২০ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় আদালত অভিযুক্ত শিশু ও তাদের অভিবাবক ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। 

অভিযুক্ত শিশুরা জানান, তাদের উপরে মামলা থাকার কারণে প্রতিমাসে আদালতে হাজির হতে হতো। লেখাপড়া বাদ দিয়ে আদালতে হাজির হতেন তারা। এ কারণে তাদের অনেক ক্ষতি হতো। আদালতের আদেশে তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন। আদালতের আদেশ তারা মেনে চলবেন। 

রায় ঘোষণার পর আদালতের পক্ষ থেকে প্রত্যেক শিশুর হাতে “১০০ মনীষীর জীবন” নামে একটি করে বই উপহার দেয়া হয়। 

বিচারক জাকির হোসেন এই রায়ের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরকে শিশুদের অপরাধ প্রবণতা থেকে দুরে রাখতে সুন্দর পরিবেশ দেয়ার আহবান জানান ও তাদের প্রতি যত্নশীল হতে বলেন। শিশুদের উদ্দেশে তিনি আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত হওয়ার উৎসাহ দেন। 

এই মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চলমান ছিল, রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদী এবং বিবাদী পক্ষের সকলেই।

সুনামগঞ্জ সনাকের সভাপতি এড আইনুল ইসলাম বাবলু বলেন, সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় আদালতের এই রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে। সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি মামলায় শিশুদের অভিযুক্ত করে মামলা দেয়া হয়। দেশে বিভিন্ন স্থানে লেখাপড়াত থাকা শিশুদের বাড়ির ঘটনার সংগে জড়িয়ে মামলা দেয়া হয়। তাদেরকে আসামি করা হয়। এটি মূলত দুই কারণে করা হয় একটি হলো শিশুর জীবনকে নষ্ট করে দেয়া ও পরিবারের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস করে দেয়া। যে কোনো মামলায় শিশুদের জড়িয়ে অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার ভালোভাবে খতিয়ে দেখা উচিৎ।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, শিশুরা হল জাতির ভবিষ্যৎ। তারা বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে নানান মামলায় জড়িত ছিল। আদালত শিশু আইনের বাস্তবায়ন ও শিশু অধিকার রক্ষায় এ রায় দিয়েছেন। শিশুদের প্রতি বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখার জন্য অভিভাবকদের আদেশ দেন। যাতে শিশুরা আবারও অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে।

প্রবেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউর রহমান বলেন, আদালতের আদেশ মেনে চলার বিষয়টি কঠোর ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কেউ আদেশ লংঘন করলে আদালতে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। এর আগে যে সব শিশু প্রবেশনে মুক্তি পেয়ে পরিবারের কাছে ফিরে গেছে তারা ভালভাবে চলাফেরা করছে।

শিশু আদালতের পিপি নান্টু রায় বলেন আদালত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে জীবন যাপন করে সুষ্ঠু জীবনে ফিরে যেতে পারবে। শিশু আদালতের বিচারক মো জাকির হোসেন এর আগেও ১৪ জন শিশুকে শর্তযুক্ত মুক্তি প্রদান করেন।

About

Popular Links