Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বোরো আবাদে নতুন প্রযুক্তি, বাঁচবে সময় বাড়বে ফসল

সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারসহ বোরো ধানের উৎপাদন খরচ কমানো, শ্রমিক সংকট নিরসন ও সময় সাশ্রয় সম্ভব

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:০৯ পিএম

বোরো ধান আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীলফামারী সদরের তরুনীবাড়ি গ্রামে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচি চলছে। এটি হল সমলয় পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষক স্বল্প সময়ে অধিক ফসল উৎপাদন করতে পারবে বলছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

বুধবার (২০ জানুয়ারি) তরনীবাড়ি ব্লকের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম রায় জানান, সনাতন পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি না করে প্লাস্টিকের ফ্রেম বা ট্রেতে বীজ বপণ করা হয়েছে। এতে ৩:২ অনুপাতে মাটি ও গোবরের মিশ্রণ দিয়ে বীজতলা তৈরি করা হয়। এরপর বীজ ছিটিয়ে পুনরায় অর্ধেক মাটি ও গোবর মিশ্রণ দিয়ে সমতল জায়গায় রেখে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখা হয়। বীজতলা তৈরির ৩ দিনের মধ্যে অঙ্কুর বের হয়ে যায়। ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে চারা উৎপাদন করে রোপণ করা সম্ভব।

এই ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে ৭৭ জন কৃষক সরকারের এই প্রণোদনার আওতায় এসেছে। এর মধ্যে ২২ জন নারী কৃষক রয়েছেন। এই ব্লকের কৃষক মোস্তফা, নুর আমিন, বিধান চন্দ্র রায়, নুরনাহারসহ অন্যান্য কৃষকরা জানায়, সেচের অভাবে সব জমিতে বোরো আবাদ করা যায় না। তাই ওই গ্রামে ৫০ একর জমিতে বোরো আবাদের জন্য সাড়ে ৪ হাজার ট্রেতে বোরো বীজতলা তৈরি হয়েছে। এতে তুলনামূলক কম খরচে অধিক লাভবান হবেন কৃষক।

এখন বীজতলার বয়স চলছে ২১ দিন। আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মাধ্যমে চারা রোপণ কাজ শুরু করা হবে জমিতে। এতে কৃষক ভালমানের চারা উৎপাদন করে অল্প সময়ের মধ্যে অধিক জমিতে ফসল ফলাতে পারবেন।

এই ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, “সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা ভাল চারা ও অধিক ফলন পাব এমন আশা করছি। এবার আমন ধানের বাজার অনেক ভাল। তাই এলাকার সকল কৃষক বোরো ধান আবাদে বেশি আগ্রহী  হয়েছে। এই পদ্ধতিতে স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পূরণ করা ছাড়াও দেশের খাদ্য যোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সমলয়ে চাষাবাদের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারসহ বোরো ধানের উৎপাদন খরচ কমানো, শ্রমিক সংকট নিরসন ও সময় সাশ্রয় সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, “সফলভাবে ফসল উৎপাদনের জন্য সমলয়ে চাষাবাদ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং কৃষি মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় কৃষক বোরো বীজ সার ও ফসলের উপকরণ পাবে।”

এই পদ্ধতিতে এই অঞ্চলে বোরো আবাদে কৃষকের আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে বলে, আশা করেন তিনি।

বোরো ধান সমলয় চাষাবাদের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৪ হাজার ৫০০ ট্রেতে বীজতলা তৈরির লক্ষামাত্রা নেওয়া হয়েছে। এটি অর্জনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। বর্তমান সরকার এ কার্যক্রমে সহজে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকদের অধিক ফলন ঘরে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করছেন।

About

Popular Links