Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আতঙ্কে পুরুষশূন্য এলাকা, পুলিশে ‘আস্থা নেই’ এলাকাবাসীর

সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হবে না, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকায় মাইকিং করেছে পুলিশ।তারপরও আস্থা রাখতে পারছেন না এলাকাবাসী

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:২৬ পিএম

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধা শহরের পুর্বকোমরনই এলাকায় গত শনিবার (১৬ জানুয়ারি) পুলিশের উপর হামলা, ভাংচুর ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটার পরই গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে যায় গ্রামগুলো। সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হবে না, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকায় মাইকিং করেছে পুলিশ। তারপরও পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না এলাকাবাসী।

বুধবার (২০ জানুয়ারি) গাইবান্ধা শহরের পুর্বকোমরনই এলাকা ঘুরে কোনো পুরুষ মানুষ দেখা যায়নি। এলাকায় শুধু নারী, বৃদ্ধ ও ছোট শিশুরা ছিল। সাধারণত শীতের সকালে চায়ের স্টল ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে যে আড্ডা হয়, বুধবার তা দেখা যায়নি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুর্বকোমরনই এলাকার এক নারী বলেন, “বাড়িতে থাকার জন্য গত মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) পুলিশ মাইকিং করেছে। তারপরও আতঙ্ক কাটছে না। পুরুষেরা বাড়িতে আসছেন না। পালিয়ে আছেন। সম্ভাব্য গ্রেফতারের ভয়ে লোকজন এলাকা ছাড়া হয়েছেন।”

একই এলাকার আরেক নারী জানান, “পুলিশ মাইকিং করেছে তাতে কি। তাদের কথা কেউ বিশ্বাস করছেন না। পুরুষ মানুষ পালিয়ে আছেন। আমরা ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে  বাড়িতে আতঙ্কে রয়েছি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, “তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হোক। নিরীহ ও নিরাপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি পুলিশকে লক্ষ্য রাখা উচিত।”

এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান বলেন, “তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদেরই গ্রেপ্তার করা হবে। কাউকে হয়রানি করা হবে না।”

তিনি বলেন, “আতঙ্ক কাটাতে গত মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী পুর্বকোমরনই এলাকায় মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা, জেলা পরিষদের সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে মাইকিং ও গণসংযোগ করা হয়েছে। মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কোমরনই কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল ঘোষণার প্রস্তুতির সময় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আনোয়ার-উল সরোয়ার সাহিবের কর্মী-সমর্থকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যদের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা পুলিশের রিকুজিশন করা একটি লেগুনাতেও আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কর্মী-সমর্থক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গুলি ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এতে পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের ৫ কর্মীসহ কমপক্ষে ২০-২৫ জন আহত হন। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ ভোট গণনা না করেই ব্যালট ও সরঞ্জাম ওই কেন্দ্র থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাই এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় শনিবার গভীর রাতে সদর থানায় পুলিশ ও র‌্যাব বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। সন্ত্রাস দমন আইনে এই মামলা দুইটি দায়ের করা হয়। পুলিশের মামলায় ৪১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়। অপরদিকে র‌্যাব ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা করে। 


 

About

Popular Links