Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ধর্ষণ মামলায় বিয়ে করে জামিন পেলেন রাজশাহীর সেই চিকিৎসক

প্রায় ছয় মাস কারাগারে থেকে বিয়ের শর্তে জামিন পানি ধর্ষণ মামলার আসামি ডা. রানা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:৪৩ পিএম

রাজশাহীতে আদালতে বিচারকের উপস্থিতিতে বিয়ে করে জামিন পেয়েছেন ধর্ষণ মামলার এক আসামি। 

বুধবার (২০ জানুয়ারি) রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে আসামিকে জামিন দেন আদালতের বিচারক মো. মনসুর আলম। বিয়েতে ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকা নগদে পেয়েছেন নববধূ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, “মামলা শেষ হওয়ার আগেই বাকি ২৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।”

আসামির নাম এসএম সাখাওয়াত হোসেন রানা (৪৬)। তিনি একজন চিকিৎসক। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সহকারি রেজিস্ট্রার তিনি। 

ডা. রানা রাজশাহী নগরীর টিকাপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁর পোরশা উপজেলায়। তার স্ত্রী-সন্তানও আছে। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৫ জুলাই তিনি গ্রেফতার হন। এরপর থেকে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারেই ছিলেন। এরই মধ্যে গত ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। প্রায় ছয় মাস কারাগারে থাকার পর বিয়ের শর্তে জামিন পান ডা. রানা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডা. রানা ও ওই নারীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে ফেসবুক ও মোবাইল ফোনে আলাপচারিতার একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে কৌশলে ওই নারীকে রাজি করিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন ডা. রানা। কিন্তু বিয়ের কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নারী ডা. রানাকে এড়িয়ে যেতে শুরু করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, গত ২৫ জুলাই ডা. রানা ওই নারীর ভাড়া বাসায় গিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিওচিত্র দেখিয়ে বলেন, তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে হবে। তা না হলে এ ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এভাবে ভয় দেখিয়ে ডা. রানা ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর ওই নারী বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় পর্নোগ্রাফি ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

গ্রেফতারের দিন অভিযুক্ত চিকিৎসকের কাছ থেকে ওই নারীকে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। সেটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। 

ডা. রানা জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তাই তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিয়ের পর ওই নারী বুধবার দুপুরে বলেন, “ডা. রানার বাবা গত সোমবার তার ছেলেকে বিয়ে করতে আমাকে প্রস্তাব দেন। অনেক কিছু ভেবে-চিন্তে আমি রাজি হয়ে যাই। এরপর সেদিনই আদালতে একটি পিটিশন করা হয় যে, মামলার বাদী ও আসামি বিয়ে করতে চান। আসামিকে যেন জামিন দেয়া হয়। এ দিন বিচারক আসামিকে বুধবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। বিচারক সিদ্ধান্ত দেন, আদালতেই তাদের বিয়ে হবে।”

About

Popular Links