Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সবার আগে প্রধানমন্ত্রীকে ভ্যাকসিন নিতে অনুরোধ ডা. জাফরুল্লাহর

‘কেবল জনগণকে অনুপ্রাণিত করার জন্য প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ভ্যাকসিনটি গ্রহণ করা উচিত’

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২১, ০৪:৫৫ পিএম

বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার সাথে সাথে সবার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের প্রথম শট গ্রহণের অনুরোধ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। 

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকার গণস্বাস্থ্য মিলনায়তনে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সঠিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “কেবল জনগণকে অনুপ্রাণিত করার জন্য প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ভ্যাকসিনটি গ্রহণ করা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “প্রথমেই প্রধানমন্ত্রীর ভ্যাকসিন গ্রহণ মানুষের মধ্যে আরও আস্থা তৈরি করবে।”

“আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, এবং জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ - এই তিন নেতাদের দিয়ে যদি প্রথমেই টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয় তবে কি এ অভিযান আরও কার্যকর হবে না?” - এমন প্রশ্নের জবাবে জাফরুল্লাহ বলেন, “এটি করা গেলে অবশ্যই ভাল হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীকেই এর নেতৃত্ব দেওয়া উচিত।”

এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশে টিকাদান কার্যক্রম চালু করার সময় তিনি সানন্দে প্রথম টিকাটি গ্রহণ করবেন। 

মন্ত্রিসভা কমিটির সর্বসাধারণের ক্রয় সংক্রান্ত অনলাইন বৈঠকের পর ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমার বয়স বিবেচনা করে আমি অবশ্যই এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করব।”

আলোচনায় ডা. জাফরুল্লাহ, প্রথম ধাপের তিন কোটি টিকা না দেওয়া পর্যন্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকা ক্রয় ও প্রয়োগ বন্ধ রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, “বেসরকারি সংস্থাগুলি এই ভ্যাকসিনের জন্য আরও বেশি চার্জ নিলে, কে নিশ্চয়তা দিবে যে তারা ভুল বা ভেজাল ভ্যাকসিনগুলো প্রয়োগ করবে না?”

তিনি বলেন, টিকাদান পরিকল্পনায় অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো ঝালাই করা প্রয়োজন। 

মূল চ্যালেঞ্জ

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, জাল বা ভেজাল ভ্যাকসিনের আবির্ভাব, উপযুক্ত ব্যক্তিদের টিকাদান, জনসাধারণকে ভ্যাকসিন গ্রহণের বিষয়টি বোঝানো, এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা, সরকারি টিকাদান কর্মসূচিকে প্রভাবিত না করে বেসরকারিভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং ভ্যাকসিনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা - টিকাদান কর্মসূচির মূল চ্যালেঞ্জ।

যেহেতু জনসংখ্যার একটি বড় অংশের প্রযুক্তি-জ্ঞান নেই সেহেতু টিকাদান কার্যক্রমে দালালের আগমন ভ্যাকসিন প্রত্যাশীদের জন্য দুর্ভোগ আনবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। 

তিনি বলেন, যদি জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে হাতে হাতে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো তবে ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের জন্য সহজ হতো। 

প্রথম প্রজন্মের ভ্যাকসিন

আলোচনায় বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবুও আমাদের ভ্যাকসিন গ্রহণ করা প্রয়োজন। জনগণের এটি বুঝতে হবে এবং টিকা গ্রহণে প্রত্যয়ী হতে হবে।”

অধ্যাপকের মতে, “ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত থাকতে পারে, তবে এই মুহূর্তে তা নিশ্চিত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “এটি একটি প্রথম প্রজন্মের ভ্যাকসিন এবং এই ধরনের ভ্যাকসিন সাধারণত কখনো ব্যবহার করা হয় না। দ্বিতীয় প্রজন্মের ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। কিন্তু তবুও আমরা জরুরি ভিত্তিতে প্রথম প্রজন্মের ভ্যাকসিন নিচ্ছি।”

এটি বিজ্ঞানের একটি অংশ এবং এই মুহুর্তে টিকাদান এড়ানো সম্ভব নয় মন্তব্য করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, “এমনকি আমিও যদি টিকা গ্রহণের জন্য নির্বাচিত হই, তবে আমিও টিকা নেব।” 

অনুষ্ঠানটিতে বাংলাদেশ ফার্মাকোলজিকাল সোসাইটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের (ডিজিএইচএস) সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক জাকির হুসেইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার, বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে উপহার হিসাবে কোভিড -১৯ ভ্যাকসিনের ২০ লাখ টিকা গ্রহণ করে।

এছাড়াও, সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এসআইআই) ২৫-২৬ জানুয়ারির মধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা করোনভাইরাস ভ্যাকসিনের ৫০ লাখ টিকার প্রথম লট বাংলাদেশে রফতানি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

চুক্তি অনুযায়ী আগামী পাঁচ মাস প্রত্যেক মাসে ভ্যাকসিনের প্রায় ৫০ লাখ টিকা আসার কথা রয়েছে। 

ইতোমধ্যে সরকার এসআইআই থেকে এই ভ্যাকসিনের ৩ কোটি টিকা আমদানির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য পরিসেবা বিভাগের ১,২৭১.৫৫ কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

About

Popular Links