Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অনলাইন জন্ম নিবন্ধনে লিঙ্গ বিভ্রাট!

১ জানুয়ারি নতুন অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকেই পুরো জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১১:২৭ পিএম

কল্পনা করুন, একদিন সকালে ঘুম ভেঙে জানতে পারলেন সরকারি তথ্যানুযায়ী আপনার মা একজন পুরুষ। ছোট্ট এই ভুলটার পরিণতি কতো বড় হতে পারে তা বলার বাইরে। এমনই এক অদ্ভুত ঘটনা উঠে এসেছে ঢাকা ট্রিবিউনের হাতে আসা তথ্যে। 

সম্প্রতি মিরপুর সিটি কর্পোরেশন অফিসে গিয়ে এক ব্যক্তিকে তার মায়ের মৃত্যুসনদ তোলার চেষ্টা করতে দেখা যায়। কর্মকর্তারা যখন তাকে মৃতের জন্ম সনদের একটি অনুলিপি জমা দিতে বলেন, তিনি আবিষ্কার করেন তার মাকে জন্ম নিবন্ধন ডিরেক্টরিতে একজন পুরুষ হিসেবে নিবন্ধিত করা আছে। তিন দিনের প্রশাসনিক ঝামেলা কাটিয়ে তবেই তিনি সমস্যাটির সমাধান করতে পেরেছেন। 

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল (ডিআরজি) একেএম মাসুদুর রহমান বলেন, ডিরেক্টরিতে তথ্য প্রবেশকারী কর্মকর্তার সচেতনতার অভাবে এই ধরনের ত্রুটি ঘটতে পারে। 

তিনি আরও বলেন, "কেউ যেন প্রতারণা করতে না পারে এবং রোহিঙ্গারা যাতে জাতীয় ডিরেক্টরিতে না আসে সে বিষয়ে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। সমস্ত নিয়ম-কানুন সঠিকভাবে মেনে তবেই কেউ ভেরিফাইড সার্টিফিকেট পাবেন।" 

১ জানুয়ারি নতুন অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকেই পুরো জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। নতুন অনলাইন জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলোর মধ্যে ভুল লিঙ্গ এন্ট্রি দেওয়ার ঘটনাই মানুষকে বেশি হয়রানিতে ফেলছে। সিটি করপোরেশন অফিসে জন্ম ও মৃত্যু সনদে ভুল লিঙ্গ ঠিক করতে আসা মানুষের সংখ্যাই বেশি। 

সন্তানদের স্কুলে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় জন্মসনদ চান এমন অভিভাবকরা নতুন পদ্ধতিতে বেশি ভুগছেন। অভিভাবকরা বেশ কয়েকটি বাধ্যতামূলক শর্ত সম্পর্কে অভিযোগ করে আসছেন। যার মধ্যে শিশুর জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলাকালীন বাবা-মায়ের অনলাইন জন্ম নিবন্ধকরণের বিবরণের বিষয়টি অন্যতম। 

"অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। বাবা-মাকে প্রথমে সেগুলো গ্রহণ করতে হবে এবং তারপর সনদগুলো নিয়ে স্কুলে জমা দিতে হবে ভর্তির জন্য। কিন্তু স্কুলগুলো অপেক্ষা করতে চাইছে না। এমনিও করোনাভাইরাসের জন্য সবকিছুই ধীর গতিতে আগাচ্ছে। আগামী মাসে স্কুল খুলে দিলে কবে সনদ পাবো আর কবে ভর্তি হওয়া যাবে সেটাই বুঝতে পারছি না," বলছিলেন ছেলের জন্ম সনদের জন্য সিটি করপোরেশন অফিসে আসা এক বাবা। 

তিনি সিটি কর্পোরেশন অফিসে কর্মরত একজনকে বলছিলেন, “কুমিল্লায় প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ এবং দ্রুত ছিল। আমি এক দিনের মধ্যেই আমার সনদ সংশোধন করেছিলাম। আর এখানে আমার ছেলের জন্মের সনদে তথ্য সংশোধন করার জন্য পর পর তিন দিন এসেও কোনো সমাধান পেলাম না।" 

অপরদিকে মৃত্যু সনদের ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির অনলাইন জন্ম সনদের অনুলিপি সরবরাহ করা প্রয়োজন। কিন্তু মৃত ব্যক্তির জন্ম সনদটি সার্ভারে নিবন্ধিত না থাকলে, যে ব্যক্তি মৃত্যু সনদটি সংগ্রহ করতে চান তাকে ম্যানুয়াল অনুলিপিটি দেখিয়ে মৃত ব্যক্তির অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। তবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধকরণ অফিসের অনলাইন সার্ভারটি বেশিরভাগ সময়ই ডাউন থাকে বলে অনেকেই সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন। 

প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলি স্বীকার করে ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল একেএম মাসুদুর রহমান বলেন, " ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই সার্ভারের সমস্যাটি ঠিক করা হবে।" 

তিনি আরও বলেন,"সার্ভারের ডেটা সংরক্ষণ করে স্থানীয় অঞ্চলভিত্তিক আলাদা নিবন্ধনের কাজ ৩১ জানুয়ারির পরে শুরু করা হবে। যেহেতু দেশজুড়ে লোকজন কেন্দ্রীয় সার্ভারটিতেই যাচ্ছেন, তাই সাইট ট্রাফিক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর কারণেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।"

About

Popular Links