Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রেল আধুনিকায়ন প্রকল্পে দুই হাজার কোটি টাকা

এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহশীর্ষক একটি প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:৪৩ পিএম

রেলপথকে আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। রেলভ্রমণকে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ করতে এবং আরও উন্নত সেবা দেওয়ার জন্য নেওয়া এই উদ্যোগ রেলপথে চলাচলে মানুষকে আরও উৎসাহিত করবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের। 

রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রেলের গুণাগুণ সম্পন্ন লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন এবং যাত্রীবাহী ক্যারেজ সরবরাহ, যাত্রী চাহিদা পূরণের জন্য নতুন ট্রেন পরিচালনা ও বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহশীর্ষক একটি প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৯৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। দক্ষিণ কোরিয়া ভিত্তিক সংস্থা ইডিসিএফ এ প্রকল্পের প্রকল্প সাহায্য প্রদানকারী হিসেবে কাজ করবে এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি আগামী ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যেই এটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে।      

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১৮৬টি মিটার গেজ ও ৯৬টি ব্রড গেজসহ মোট ২৮২টি লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন রয়েছে যাদের অর্থনৈতিক মেয়াদ ২০ বছর হলেও ১৬৮টি ইঞ্জিনের বয়স ৩০ বছর অতিক্রম করেছে। অতিরিক্ত চাহিদার জন্যব্যয় বহুল মেরামত ও অধিক জ্বালানি ব্যয়ের মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনসমূহ চালানো হলেও অনেক পুরাতন মডেলের হওয়ায় মেইনটেন্যান্স পার্টস সহজলভ্য নয়। তাই রেলওয়ে বহর থেকে এসব পুরাতন ইঞ্জিন বাতিল করা প্রয়োজন।  

অন্যদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১ হাজার ১৬৫টি যাত্রীবাহী মিটার গেজ ক্যারেজ বা কোচ রয়েছে যার মধ্যে ৪৫৬টি যাত্রীবাহী কোচের মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং ১৩৫টির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে। মেরামতের মাধ্যমে এগুলো চালাও হলেও এগুলো আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন কিংবা আরামদায়ক ও নিরাপদ নয়। এগুলো অনেক আগেই পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলেও কোচ স্বল্পতার কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই এই প্রকল্পটির বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং এ প্রকল্পের আওতায় ২০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক ইঞ্জিন সংগ্রহ করা হবে। ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ করা ছাড়াও ইঞ্জিন কেনার জন্য চার জন পরামর্শকের উপদেশ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ ও নির্দেশনায় রেলের উন্নয়ন চলছে। রেলকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতেই এই বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে’। এসময় তিনি রেলকে আরও আধুনিক ও আরামদায়ক করতে আগামীতে এ ধরনের প্রকল্প আরও নেওয়া হবে বলেও জানান।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন। 

About

Popular Links