Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খেলতে গিয়ে স্কুলছাত্রী নিখোঁজ, ৬ দিন পর লাশ উদ্ধার

স্থানীয় বেকারি শ্রমিকের মেয়ের সাথে স্কুল ছাত্রীর খেলার ইস্যুকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর সন্দেহভাজন হয়ে ওঠে বেকারি শ্রমিক, এতে পরিবেশ ক্রমশ ঘোলাটে হতে থাকে

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০৯ এএম

খুলনার দৌলতপুরে নিখোঁজের ৬ দিন পর স্কুল ছাত্রী অঙ্কিতা দে ছোঁয়া'র (৮) লাশ সেপটি ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৮ জানুয়ারি ) দুপুরে দৌলতপুর থেকেই পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

গত ২২ জানুয়ারি দুপুরে মহানগরীর দৌলতপুর ৫নং ওয়ার্ডস্থ পাবলা বণিকপাড়া মৌচাক টাওয়ার ও ইউনাইটেড স্কুলের মধ্যেবর্তী জায়গা থেকে সে নিখোঁজ হয়। সে সুশান্ত দে’র ছোট মেয়ে ও বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন জানান, শিশুটির বাবা-মা বাদী হয়ে স্কুল ছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি  থানায় মামলা দায়ের করেন। 

এরপর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি ) বেলা ৩টার দিকে পাবলার বণিকপড়া কালিমন্দিরের দক্ষিণ পাশে একটি ৫ তলা ভবনের নিচতলার সেপটি ট্যাঙ্ক থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে ভবনের নিচতলায় মেকাপ ওয়ে নামের পার্লার মালিক মুক্তি বিশ্বাস ও মিস্ত্রী মানিককে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।   

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি ১২টার দিকে অঙ্কিতা বাড়ি হতে বের হয়ে পাশের স্থানীয় গোলামের মাঠে খেলতে যায়। এমনই সূত্র পাওয়া যায় গোলামের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে।

তবে সেখানে অঙ্কিতা কয়েক মিনিট মাত্র অবস্থান করে। ফুটেজে দেখা যায় গোলামের মাঠ ত্যাগ করে সে তার বাড়িতে ফেরেনি। 

স্থানীয় এক বাড়ির ভাড়াটিয়া নাসিমা বেগম (৩৭) তার স্বামী ইজিবাইক চালক জাহাঙ্গীরের সাথে মোল্লার মোড়ে দেখা করার সময় পথিমধ্যে বিকাল ৫টার দিকে স্থানীয় মিজা বন্দের ফাকা জায়গায় বেকারি  শ্রমিক জাহাঙ্গীরের মেয়েসহ আরও দুটি মেয়ের সঙ্গে খেলা করতে দেখে অঙ্কিতাকে।

নাসিমার এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে ভিকটিমের পরিবার ও এলাকাবাসীর সন্দেহের তীর বেকারি শ্রমিক জাহাঙ্গীরের দিকে ওঠে আসে।

সন্দেহ আরও বাড়ে যখন জানা যায়, জাহাঙ্গীর ২৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগম রিক্তা, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি আর শালীকে নিয়ে যশোর ক্যান্টমেন্ট ফুফু শ্বাশুড়ি বীনার বাড়িতে বেড়াতে যায়। 

তাদের হঠাৎ এ স্থানত্যাগ ও তার মেয়ের সঙ্গে অঙ্কিতা খেলার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের পরিবার ও এলাকাবাসীর সন্দেহ আর চাঞ্চল্যতা তীব্র আকার ধারণ করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অরুপ কুমারকে জানালে তিনি বিকালের মধ্যে জাহাঙ্গীরকে নিজ বাড়িতে চলে আসার নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে জাহাঙ্গীর সেদিন বিকালে নিজ বাড়িতে ফিরে আসলে এলাকার বাসিন্দারা তার বাড়িতে গিয়ে তাকে নানা প্রকার প্রশ্ন করতে শুরু করে এবং পরিবেশ ঘোলাটে হতে থাকে।

এ পরিস্থিতিতে থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল-মামুনকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি ২৩ জানুয়ারি দিবাগত রাতেই টহলে থাকা এসআই সাইফুল ইসলামকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বেকারি শ্রমিক জাহাঙ্গীর ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী রিক্তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দেন।

২৩ জানুয়ারি থেকে দফায় দফায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এমন পরিস্থিতে ভিকটিমের বাবা সুশান্ত দে জিজ্ঞাসাবাদে আনা বেকারি শ্রমিক ও তার স্ত্রী রিক্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ মামলায় দুজনকে বুধবার(২৭ জানুয়ারি ) জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

About

Popular Links