Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফরিদপুরের টিটা ভাসমান সেতুটি এখন পর্যটন কেন্দ্র

সরকারি সাড়া না পেয়ে গ্রামবাসীরা ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করেন যা দেশের তৃতীয় ভাসমান সেতু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:১৫ পিএম

দেশের তৃতীয় ভাসমান সেতু হচ্ছে ফরিদপুরের টিটা ভাসমান সেতু যেটি আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দসহ ছয়টি ইউনিয়নের ১২ হাজার মানুষের স্বপ্ন পূরণের নাম। 

মধুমতি নদীর বাওরের উপর নির্মিত সাড়ে ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ্য ভাসমান সেতুটি গ্রামবাসীরা নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে তৈরি করেছেন।

৮৫২টি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর ৬০ টন লোহার ফ্রেম দিয়ে তৈরি ভাসমান সেতুটি ২০২০ সালের ২৮ মার্চ উদ্বোধন করা হয়। গত বছর করোনাভাইরাস মহামারির লকডাউনের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিতা ছাড়াই সকলের জন্য উন্মুক্ত হলেও বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সেতুটি প্রকৃতি প্রেমিদের কাছে এক অন্যতম বিনোদনের জায়গায় পরিণত হয়েছে।

প্রতিদিনই সকাল সন্ধ্যায় অসংখ্য মানুষের ভিড়ে মুখরিত থাকে সেতুটি। এ জেলাসহ আশেপাশের কয়েকটি জেলা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় থাকায় এটি এখন সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দর্শনার্থীদের অভিমত বাওড়ের ধারে বা সেতুর আশেপাশে সরকারি উদ্যোগে যদি বসার স্থান বা ব্যাক্তি উদ্যোগে পিকনিক স্পট বা খাবার হোটেল এর ব্যবস্থা হলে দর্শনার্থীদের জন্য ভাল হতো।

ফরিদপুর শহর থেকে বেড়াতে যাওয়া নতুন দম্পতি রাজিব-শিউলি জানান, "বাড়ির কাছেই এতো সুন্দর পরিবেশ ও দৃশ্য খুবই মনোমুগ্ধকর। মানুষের মেধা-বুদ্ধির এক অনন্য উদাহরণ এটি।"

বোয়ালমারী উপজেলা থেকে বেড়াতে যাওয়া রাজেন্দ্র কলেজের সম্মান বিভাগের ছাত্র মো. পারভেজ ইসলাম চঞ্চল বলেন, "আমার কয়েকজন বন্ধুর বাড়ি আলফাডাঙ্গায়। তাদের অনুরোধেই দেখতে আসা ভাসমান সেতু। এখানে এসে দেখি শতাধিক মানুষ এ সেতুর কারুকার্য উপভোগ করছেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে পানি কম বা বাড়ার সাথে এ ভাসমান সেতুটি উঠা-নামা করে।"

টগরবন্দ ইউনিয়নের টিটা, টিটা-পানাইল, রায়ের পানাইল, শিকড়পুর, ইকরাইল, কুমুরতিয়া এ ছয়টি ইউনিয়নে সেতুর অভাবে মূল ভূখণ্ডের সাথে একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ছিল ঠিল খেয়া পারাপাড়। বর্তমানে এই ভাসমান সেতুটি গ্রামের মানুষগুলোর মুখের হাসি ও স্বস্তিতে পরিণত হয়েছে।

টগরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইমাম হাসান শিপনের উদ্যোগে ও অসংখ্য মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় ভাসমান সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

টগরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, "এ অঞ্চলে একটি কলেজ, দুটি উচ্চবিদ্যালয়, চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পোস্ট অফিস রয়েছে। নানা প্রয়োজনে মানুষকে এখানে আসতে হয়। বহু আবেদন-নিবেদন করার পরও ওই স্থানে কোনো সেতু নির্মাণ না হওয়ায় আমরা টিটা খেয়াঘাট এলাকায় চার টন এ ভাসমান সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাদের স্বপ্নের সেতু দিয়ে তারা পারাপার করে খুবই আনন্দিত।"

ফরিদপুর ১ (মধুখালী-বোয়ালমারি-আলফাডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য মনজুর হোসেন বুলবুল জানান, "টগরবন্দ ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রামের মানুষের আজন্ম দুর্ভোগ থেকে রেহায় পেতে ওই এলাকার ৭০ জন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ৭০ লাখ টাকা দিয়ে তহবিল গঠন করে নির্মাণ করেন এই সেতু।"

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, "মানুষের মনোবল আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে অনেক অসম্ভবকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে। মধুমতী নদীর ওপর গ্রামবাসীর উদ্যোগে যে ভাসমান সেতু তৈরি হয়েছে তা প্রশংসার দাবি রাখে।"

About

Popular Links