Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘নিবন্ধন ছাড়া মিলবে না ভ্যাকসিন’

ডিজিএইচএস প্রধান জানান, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী ইনকিউলেশন প্রচারণা শুরু হওয়ার সাথে সাথে তিনি নিজেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ডিজিএইচএস কর্মকর্তাদের সাথে প্রথম দিনেই ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:১৮ পিএম

নিবন্ধন না করে দেশে কেউই কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিতে পারবে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য পরিসেবা অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) মহাপরিচালক ডা. এ.বি.এম খুরশিদ আলম।  

বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে টিকাদান অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এ কথা জানান তিনি। 

তিনি উল্লেখ করেন, বুধবার সকাল অবধি মোট ৭৪ হাজার জন প্রথম ডোজটি পেতে নিবন্ধন করেছেন।  

ডিজিএইচএস প্রধান জানান, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী ইনকিউলেশন প্রচারণা শুরু হওয়ার সাথে সাথে তিনি নিজেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ডিজিএইচএস কর্মকর্তাদের সাথে প্রথম দিনেই ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।  

এ.বি.এম খুরশিদ আলম আরও বলেন, "গ্রামে এলাকায় লাউডস্পিকার ব্যবহার করে এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সরকার গণমাধ্যম প্রচারও চালাচ্ছে।"  

ডিজিএইচএস'র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল নাগাদ প্রায় ৩০ হাজার লোক নিবন্ধিত হয়েছিলেন যা মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত আরও ১০ হাজারের বেশি বেড়েছে। অবশ্য সরকারের নেওয়া "প্রথম মাসে অন্তত ৬০ লক্ষ মানুষকে টিকা দানের লক্ষ্যমাত্রার" সাথে তুলনা করে বিশেষজ্ঞরা নিবন্ধনের সংখ্যাকে কম মনে করছেন।  

"প্রথম পর্যায়ে টিকা গ্রহণে যোগ্য ও ইচ্ছুকদের অবশ্যই ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করে টিকাদান কর্মসূচিতে নাম লেখাতে হবে" বলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।  

এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, "করোনাভাইরাসকে দেশ থেকে নির্মূল করার জন্য টিকার বিকল্প নেই।"  

গত ২৭ এবং ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে মোট ৫৬৭জনকে প্রথম টিকা দেওয়া হয়েছিল। যাদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যসেবাকর্মী। 

জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেছিলেন, "আমরা প্রত্যেককেই এই টিকা কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।"  

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতারা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভ্যাকসিন নেবেন।  

অনলাইন নিবন্ধকরণের জন্য টিকা কেন্দ্রগুলিতে সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সোমবার ডিজিএইচএস'র এক কর্মকর্তা জানান, এ পর্যন্ত ৪ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন ঢাকার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এগুলো ভারত সরকার কর্তৃক উপহার হিসাবে প্রাপ্ত ২০ লাখ ডোজ থেকে নেওয়া। 

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর ছাড়া ৬১ জেলায় সরকার বৃহত্তর ইনকুলেশন প্রচারের জন্য রবিবারের মধ্যে ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে।  

ডিজিএইচএসের জাতীয় টিকাদান কমিটির সদস্য-সচিব ডা. শামসুল হক মৃধা বলেন, "আমরা মঙ্গলবার গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ভ্যাকসিন শট প্রেরণ করেছি। এরই মাধ্যমে ৬৪ জেলায় ভ্যাকসিন সরবরাহ করা সম্পন্ন হয়েছে।"  

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৭ জানুয়ারি করোনাভাইরাসের টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং সেদিনই ভ্যাকসিন নিবন্ধকরণ ওয়েবসাইট www.surokkha.gov.bd জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। 

 এছাড়াও, বাংলাদেশের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য নিবন্ধনে সহায়তার জন্য তৈরি করা সুরক্ষা অ্যাপ্লিকেশনটিও ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গুগল প্লে স্টোরে পাওয়া যাবে।  

গত বছরের ৫ নভেম্বর, বাংলাদেশ সরকার, এসআইআই এবং বেক্সিমকো অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট অ্যাস্ট্রাজেনেকার নির্মিত ভ্যাকসিন আমদানির জন্য একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।  

চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) ভ্যাকসিনের প্রথম চালান আসার অনুমতি দেয়। ২১ জানুয়ারি ভারত সরকারের উপহার হিসাবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছিল বাংলাদেশ যা ছিল দেশের প্রথম টিকা সরবরাহের চালান ।

About

Popular Links