Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এডিটর’স গিল্ড: আল জাজিরার প্রতিবেদন বাজে সাংবাদিকতার উদাহরণ

গিল্ড বাংলাদেশের ভাষ্য, প্রতিবেদনটির বেশিরভাগ অংশ সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতাকে অনুসরণ না করেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:৪০ পিএম

সম্প্রতি বাংলাদেশকে নিয়ে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন আল জাজিরার করা তথ্যচিত্র “অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন”-এর নিন্দা করে রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দ্য এডিটর’স গিল্ড বাংলাদেশের ভাষ্য,  প্রতিবেদনটির বেশিরভাগ অংশ সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতাকে অনুসরণ না করেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। 

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মোজাম্মেল হক বাবু এক বিবৃতিতে বলেন, “পুরো প্রতিবেদনটি একটি নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছিল, অথচ বলা হয়েছে অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন।”

এডিটর’স গিল্ড জানায়, উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ ছাড়াই “প্রধানমন্ত্রীর লোক” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা বাজে সাংবাদিকতা।

তারা আরও বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক ও পক্ষপাতপূর্ণ তথ্যচিত্র কোনোভাবেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার উদাহরণ হতে পারে না। প্রতিবেদনিটি সম্পূর্ণরূপে একজন ব্যক্তির কথোপকথনের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো প্রমাণ হাজির করতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।”

“বিশেষ করে, হাঙ্গেরি ও ফ্রান্সে কয়েক লক্ষ ইউরোর বিনিয়োগ হয়েছে প্রতিবেদনে যে মন্তব্য আল জাজিরা করেছে তাকে সমর্থন করেও কোনো সূত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে,” বলে জানান এডিটর’স গিল্ড।

“সরকারের চুক্তির বিনিময়ে বিশাল আর্থিক লেনদেনের অভিযোগকে বৈধতা দেওয়ার জন্য কেবল জনশ্রুতিকেই ভিত্তি করা হয়েছে। আল-জাজিরা এই অভিযোগের সমর্থনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে কোনো প্রশাসনিক বিবৃতি দেয়নি,”এডিটরস গিল্ড বলেছেন।

তারা আরও যোগ করেন, “সামি’কে হত্যার হুমকির বিষয়ে আসল ইমেইলটি দেখানো হয়নি যা প্রতিবেদনটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।”

এডিটর'স গিল্ড আরও বলেছে যে, “পাসপোর্ট জালিয়াতি, তথ্য জালিয়াতি, অর্থ পাচার ইত্যাদির সাথে জড়িতদের দেখানো হয়েছিল বলে হাঙ্গেরি, ফ্রান্স বা মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি যা এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”

একে সাংবাদিকতার নীতি বিরোধী বলে এডিটর’স গিল্ড বলে, “পুরো জিনিসটি লুকোনো ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে যা কোনো ধরনের গণমাধ্যমই করতে পারেন না। এমনকি যাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করা হয়েছে তাদের বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।”

প্রতিবেদনটি ইসরায়েলি সংস্থা থেকে স্পাইওয়ার ক্রয়ের বিষয়েও প্রমাণ দিতে ব্যর্থ।

সাক্ষাৎকারীদের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ এনে এডিটর'স গিল্ড উল্লেখ করেন, প্রতিবেদনের অন্যতম প্রধান সাক্ষাৎকারকারীই বাংলাদেশের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।

এডিটর’স গিল্ড এই বলে তাদের বক্তব্য শেষ করেন যে, “আমরা সাংবাদিকতার স্বার্থে যে কোনও সংবাদ বা অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানাই, তবে যৌক্তিক প্রমাণ দ্বারা অভিযোগ আনতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু প্রচার করা হলে গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতা উভয়ের উপরেই বিরূপ প্রভাব পড়ে।"

About

Popular Links