Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১ হাজার টাকার জন্য যুবলীগ নেতার মারধর, অপমানে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

মৃত্যুর আগে স্বজনদের ধারণ করা মোবাইল ভিডিওতে আত্মহত্যার কারণ জানিয়ে গেছেন তিনি

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:১৬ পিএম

মাত্র ১ হাজার টাকার জন্য বাজারে প্রকাশ্যে এক মাছ ব্যবসায়ীকে মারপিটের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন যুবলীগ নেতা। আর সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেন ওই ব্যবসায়ী। মৃত্যুর আগে স্বজনদের ধারণ করা মোবাইল ভিডিওতে তিনি জানিয়ে গেছেন তার মৃত্যুর কারণ।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের সনগাঁও ফটিয়াপড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল গফুরের (৪০) মৃত্যু হয়।

এর আগে সকালবেলা স্থানীয় পৌকানপুর বাজারে তাকে মারধর করেন স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি জমির উদ্দীন। এরপরে তিনি ঔষধের দোকান থেকে গ্যাস ট্যাবলেট কিনে খান।

মৃত আব্দুল গফুর ওই গ্রামের নেনকু মোহাম্মদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী।

আব্দুল গফুরের স্ত্রী রোজিনা বেগম জানান, সকালে পাশের গ্রামের পয়জার আলীর ছেলে যুবলীগ নেতা জমির উদ্দীন দু’বার টাকা চাইতে বাড়িতে আসেন। আমার স্বামীকে না পেয়ে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে বাড়ি থেকে রেগে বেড়িয়ে যান। এরপরে স্থানীয় বাজারে দেখা হলে প্রকাশ্যে বাজারের লোকজনের সামনে তাকে মারপিট করেন।

প্রতিবেশী নাসিরুল ইসলাম জানান, আমরা গফুরকে বাঁচানোর জন্য বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতাল ও ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছিলাম। ডাক্তার বলেছে গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়া রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়। পরে আমরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসলে দুপুর ৩টায় তিনি মারা যান।

হাসপাতাল থেকে ফেরত নিয়ে আসার পর মৃত্যুর আগে আব্দুল গফুর তার স্বজনদের ধারণ করা একটি ভিডিওতে জানান, জমির তার কাছে ২৭০০-২৮০০ টাকা পেতেন। তার মধ্যে ১৭০০-১৮০০ টাকা শোধ করে দিয়েছিলেন। “বাকি এই ১ হাজার টাকার জন্য প্রকাশ্যে গালিগালাজ, মারপিট আর অপমান করেন, এটা সহ্য করতে না পেরে আমি গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছি।”

এদিকে, এ ঘটনায় যুবলীগ নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে মৃত ব্যবসায়ীর পরিবার ও প্রতিবেশীরা।

অন্যদিকে, জমির উদ্দীনের বাড়িতে গিয়ে তার দেখা পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি রিসিভ হয়নি। 

স্থানীয় সাংবাদিক আল মামুন জীবন বলেন, যুবলীগ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শাখার সভাপতি মাজেদুর রহমান তার কাছে স্বীকার করেছেন যে, জমির উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি। 

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি তদন্ত  আব্দুস সবুর বলেন, “লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে, রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।”

তিনি যুবলীগ নেতার সম্পৃক্ততার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “ওরা একসাথে ব্যবসা-ট্যাবসা করতো। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।”

About

Popular Links