Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রতারণা মামলায় রিজেন্ট সাহেদ সিলেট কারাগারে

মঙ্গলবার সকালে কড়া নিরাপত্তা ও কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে সাহেদ করিমকে সিলেট আদালতে হাজির করে পুলিশ

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:৩২ পিএম

প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান, আলোচিত সাহেদ করিমকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সিলেট জৈন্তাপুরের পাথর ব্যবসায়ী মাওলা স্টোন ক্রাশার মিলের স্বত্বাধিকারী শামসুল মাওলার দায়ের করা তিনটি চেক ডিজঅনার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত সাহেদ করিমকে সিলেটের আদালতে হাজির করা হয়। 

সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক অঞ্জন কান্তি দে দুপুরে সাহেদ করিমকে ওই তিন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। 

পাশাপাশি সাহেদের বিরুদ্ধে একই বাদীর আরেকটি প্রতারণার মামলা তদন্ত করে পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

এর আগে মঙ্গলবার সকালে কড়া নিরাপত্তা ও কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে সাহেদ করিমকে সিলেট আদালতে হাজির করে পুলিশ।

আদালতে বাদী পক্ষের আইনজীবী এপিপি আবদুস সাত্তার জানান, "সাহেদের বিরুদ্ধে আদালতে চারটি মামলা দায়ের করেছিলেন ব্যবসায়ী শামসুল মাওলা। সাহেদ করিমের কাছে তার ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকার বদলে সাহেদ ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ৩টি চেক দিয়েছিলেন। কিন্তু, মামলার বাদী টাকা পাননি। পরে তিনি চেক ডিজঅনার করে মামলা করেন।" 

এছাড়াও অন্য একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১০ লক্ষ টাকার একটি ভুয়া চেক দিয়ে পাথর কিনেন সাহেদ। এ জন্য আদালতে আরেকটি প্রতারণা, জালিয়াতি ও আত্মসাৎ মামলা দায়ের করেন ব্যবসায়ী শামসুল মাওলা। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জৈন্তাপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সাহেদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী শামসুল মাওলা সর্বশেষ মামলাটি দায়ের করেন গত ১১ ফেব্রুয়ারি। এতে ভুয়া একটি চেকে ১০ লক্ষ টাকার অংক বসিয়ে স্বাক্ষর দিয়ে প্রদানের অভিযোগ আনা হয় সাহেদের বিরুদ্ধে।

এর আগে গত বছরের ৪ মার্চ সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে সাহেদের বিরুদ্ধে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার তিনটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন ব্যবসায়ী শামসুল মাওলা। সাহেদের দেয়া ১০ লক্ষ টাকা করে ২টি চেকে ২০ লক্ষ টাকা ও আরও একটি চেকে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারিত সময়ে না পাওয়ায় এই ৩ মামলা করেন তিনি।

গত ৮ নভেম্বর সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের ওই তিন মামলার শুনানিতে বাদী পক্ষের আইনজীবী সাহেদকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন করলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে ঢাকা থেকে মঙ্গলবার সাহেদকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়।

উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট প্রদান, অর্থ আত্মসাতসহ প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠার পর গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত এলাকা থেকে রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এর আগে ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ভুয়া করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনাভাইরাসের চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরে রোগীদের সরিয়ে রিজেন্টের উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয়া হয়।

About

Popular Links