Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কেন এখনও সরানো হচ্ছে পথকুকুর?

সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা প্রাণী অধিকার কর্মীদের  উদ্বিগ্ন করে তুলেছে

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৭:১২ পিএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগরী থেকে পথকুকুর সরানোর কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি করছেন নাগরিকেরা। 

১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বঙ্গবাজার এলাকায় এক পথচারীর ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায় যে, সকাল ৭টার দিকে ডিএসসিসি এর গাড়ি থেকে দু'জন লোক নেমে জাল ব্যবহার করে একটি পথকুকুরকে ধরার চেষ্টা করছেন।

৫৫ সেকেন্ডের সেই ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুসাউদনাবি সৈকত নামে একজন নাগরিক ভিডিওটি ধারণ করেন।

তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, "বিষয়টি আমার কাছে ভীষণ অমানবিক মনে হয়েছে। আমি লোকগুলোর সাথে কথা বলেছিলাম তারা আসলেই ডিএসসিসি থেকে এসেছে কিনা। বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই আমি ভিডিওটি ধারণ করি। তারা আমাকে জানায় কুকুরটিকে তারা ঢাকার বাইরে অন্য লোকালয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নিতে এসেছে।"

এ ঘটনার পরপরই ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে আরেকটি পথকুকুরকে আটক করা হয়েছে। তবে এবার সিটি করপোরেশনের দাবি, এটি স্থানান্তর প্রক্রিয়া নয় বরং একটি জন্ম নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অংশ।

গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী থেকে পথকুকুর অপসারণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান এবং অভয়ারণ্য ও পিপলস ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার নামে দুটি প্রাণী কল্যাণ সংগঠন।


আরও পড়ুন - রাজধানীর কুকুর অপসারণ বন্ধে জয়া আহসানের হাইকোর্টে রিট


পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার (পিএডব্লিউ) ফাউন্ডেশন  বিতর্কিত পথকুকুর সরানোর প্রতিবাদে গত বছর ডিএসসিসির বিরোধিতা করেছিল।

আবার এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা রকিবুল হক এমিল জানান, "এই ভিডিওটি দেখার পর আমরা বুঝতে চেষ্টা করছি যে, ডিএসসিসি মেয়র এই ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছেন কিনা। ডিএসসিসি কর্মচারিরা নিজেদের থেকেও কুকুর  অপসারণে জড়িত থাকতে পারেন।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা দেখেছি যে কিছু জনপ্রতিনিধি নিজেরাই বেওয়ারিশ কুকুরগুলো অপসারণে জড়িত। স্থানান্তর কর্মসূচি এবং বিপথগামী কুকুরের জন্য বন্ধ্যাত্ব ব্যবস্থা নিয়ে ডিএসসিসি ঠিক কী পরিকল্পনা নিয়েছে প্রথমে সে বিষয়ে আমাদের একটি স্পষ্ট ধারণা প্রয়োজন।"

এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিনুল্লাহ নুরী বলেছেন, "নাগরিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা স্থানান্তর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা যখন কোনও অঞ্চলে পথকুকুর দ্বারা মানুষকে কামড়ানোর অভিযোগ পেয়েছি তখনই আমাদের কর্মীরা অঞ্চলটি পরিদর্শন করে কুকুরদের নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছে, যেখানে তারা যথেষ্ট পরিমাণে খাবার পাবে।"

তিনি আরও জানান, "আমরা নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আমাদের দায়িত্ব পালন করছি। বর্তমানে অভিযোগ ছাড়া কোনও পথকুকুর অপসারণ করা হচ্ছে না।"


আরও পড়ুন - পথকুকুর স্থানান্তর বন্ধসহ ৭ দফা দাবি বাপা’র

About

Popular Links