Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘পুষ্টির ডিনামাইট’ সজিনা ফুলে সেজেছে নওগাঁ

ভারতীয় আয়ুর্বেদিক শাস্ত্র মতে, সজিনা গাছ ৩০০ রকমের রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। আধুনিক বিজ্ঞানও এ ধারণাকে সমর্থন করে।

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৭:৩৫ পিএম

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বাড়ির আনাচে-কানাচে ও রাস্তার পাশে অযত্নে বেড়ে ওঠা সজিনার গাছগুলো থোকায় থোকায় সাদা ফুলে ভরে উঠেছে। সজিনা ফুলের মিষ্টি গন্ধে মৌ মৌ করছে চারপাশ। 

শীতের শেষ যখন সজিনা গাছের সব পাতা ঝড়ে পড়ে তখনই ডালের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত আসে সজিনা ফুল। পাতাশুন্য ডালে সজিনা ফুল দেখে বিমোহিত হন অনেকেই। 

সজিনা অলৌকিক গাছ ঔষুধি গাছ হিসেবে পরিচিত। ইংরেজিতে সজিনার নাম “ড্রামস্ট্রিক” যার অর্থ ঢোলের লাঠি। নামটি অদ্ভুত হলেও এটি অতিপ্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী সবজি জাতীয় একটি উদ্ভিদ। গ্রামে রাস্তা বা বাঁধের ধারে, পুকুর পাড়ে অযত্নে-অবহেলা বেড়ে ওঠে এই গাছ। 

কিন্তু সজিনা গাছ থেকে প্রাপ্ত সজিনা বিক্রি করে আয়ের পরিমাণ নেহায়েৎ কম নয় বরং এই গাছ থেকে সবচেয়ে লাভবান হন ‍গৃহিনীরা। মৌসুমে তারা সজিনা বিক্রি করে হাতের খরচ মেটানো ছাড়াও অর্থ সঞ্চয় করেন তারা।

গাছটির পাতা, ফুল, ফল, বাকল ও শিকড় সবই মানুষের উপকারে আসে। পুষ্টির প্রাপ্যতার কারণে  বিজ্ঞানীরা সজিনাকে “পুষ্টির ডিনামাইট” আখ্যায়িত করেছেন। এ গাছের অনেক গুণ থাকায় এ গাছকে যাদুর গাছও বলা হয়।

দেশের কৃষি সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা সবুজ পাতা রান্না করে, ভর্তা করে বা বড়া ভেজে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। ফল সবজির মতো রান্না করে খাওয়া যায়, ফল পাকলে সে সব ফলের বীজ বাদামের মতো ভেজে খায় অনেকে। তাছাড়া ফল ভাঙিয়ে তেলও পাওয়া যায়। ভারতীয় আয়ুর্বেদিক শাস্ত্র মতে, সজিনা গাছ ৩০০ রকমের রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। আধুনিক বিজ্ঞানও এ ধারণাকে সমর্থন করে।  

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ৫ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২০ হাজার সজিনা গাছ আছে। প্রতি বাড়িতে কমপক্ষে ৩-৪ টি গাছ রয়েছে। এসব গাছ বাড়ির পাশে ও ক্ষেতের আইলে লাগানো হয়। গাছে ফলনও বেশি হয়। যত্ন ছাড়াই এসব গাছ বেড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে ২টি জাত আছে সজিনা ও নজিনা। সজিনার ফুল আসে জানুয়ারিতে আর নজিনার ফুল আসে মার্চ মাস থেকে। তবে সব ফুল থেকে ফল হয় না। একটি থোকায় সর্বাধিক ১৫০টি মত ফুল ধরে। ফুল ৪০ সেমি. থেকে ৮০ সেমি. পর্যন্ত লম্বা হয়। ফুল ফুটার ২ মাস পর ফল তোলা যায়। একটি বড় গাছে ৪০০টি থেকে ৫০০টি ফলটি ধরে। প্রতিটি ফলে ৩০-৪০টি বীজ হয়। দেশে সাধারণত ডাল কেটে রোপণ করলে সজিনা গাছ জন্মে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ঠাণ্ডা-গরম, লবণ, খরা সহিষ্ণু পরিবেশে এই গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রই জন্ম নেয়। এ উপজেলার মাটিতে সজিনা আবাদ ভাল হচ্ছে। উপজেলার প্রতি বাড়িতে কমবেশি ৩-৪টি করে সজিনা গাছ আছে। এ বছর সজিনা গাছে ব্যাপক ফুল ধরেছে। বড় ধরনের দুর্যোগ না হলে সজিনার বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে উৎপাদিত সজিনা ঢাকাসহ পুরো দেশে চালান হয়। দিন দিন পরিত্যক্ত জায়গায় সজিনা গাছ তৈরির আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই উপজেলায় সজিনা গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষকরা সজনের উচ্চ মূল্য পাওয়ায় তারা লাভবানও হচ্ছে।”

About

Popular Links