Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কয়লার ‘বিষে’ হুমকিতে সুন্দরবন

গত চার বছরে ৬টি ঘটনায় সুন্দরবন এলাকার নদ-নদীতে ডুবেছে প্রায় ৩৫শ মেট্রিক টন কয়লা। এসব কয়লার রাসায়নিক উপাদান নদীর পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে যা বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ০৯:৫৯ পিএম

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন সংলগ্ন মংলার পশুর নদীতে ৭০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ডুবে যাওয়া কার্গো বিবি-১১৪৮ উদ্ধারে শীঘ্রই কাজ শুরু হওয়ার আশাবাণী দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

যদিও সোমবার (১ মার্চ) পর্যন্ত তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

একের পর এক কয়লাবাহী কার্গো ডুবির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত বিরতিতেই। গত চার বছরে এ ধরনের মোট ৬টি ঘটনায় সুন্দরবন এলাকার নদ-নদীর পানিতে ডুবেছে প্রায় ৩৫শ মেট্রিক টন কয়লা। 

আর এভাবে সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়ছে কয়লার ‘বিষ’। ডুবে যাওয়া কার্গোর কয়লা পানির সাথে মিশে রাসায়নিক উপাদান ছড়িয়ে পড়ছে নদীর পানিতে। এতে বিষাক্ত হয়ে পড়ছে নদীর পানি। যা সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর ও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। 

এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, "কয়লায় সিসা, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, পারদ ও আর্সেনিকসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক পদার্থ প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান। এর সামান্য পরিমাণও জলজ প্রাণীর জীবনধারণের জন্য ক্ষতিকর।"

"এমনকি এই বিষাক্ত জলজ প্রাণী খাদ্য হিসেবে গ্রহণ মরলে মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এগুলো মাটিতে মিশে মাটির গুণাগুণ নষ্ট করে," বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, "এ ধরনের বিষক্রিয়া পানির মাধ্যমে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়াটি অবশ্যই দীর্ঘ মেয়াদী এবং এখানে ক্ষতির হার সুদূর প্রসারী হবে।"

"হারবাড়িয়া এলাকাটি ইরাবতী ডলফিনের অন্যতম বিচরণ ক্ষেত্র। কয়লামিশ্রিত পানির সংস্পর্শে এলে এ প্রাণীটির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া এ সময় কুমিরের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় বিষাক্ত পানিতে ডিম ফুটতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই এ দুর্ঘটনা ডলফিন ও কুমিরের জীবনচক্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে," বলে তিনি আশঙ্কা করেন।

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা জানান, "২ মার্চ থেকে কার্গোটি উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে। ইতোমধ্যে  বরিশাল থেকে একটি উদ্ধারকারী ক্রেন রওনা হয়েছে।" 

মংলা বন্দরের হার্বার মাষ্টার কমান্ডার ফখরউদ্দিন জানান, "কার্গোটি পশুর নদীর মুল চ্যানেলের বাইরে ডুবেছে। ফলে নৌযান চলাচলে মূল চ্যানেল নিরাপদ রয়েছে।"

কার্গো ডুবছে নিয়মিত, উদ্ধার হচ্ছে না বছরের পর বছর

২০১৮ সালের গত ১৫ এপ্রিল ভোর রাতে ৭৭৫ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে এমভি বিলাশ নামে কার্গো ডুবো চরে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। এ দুর্ঘটনার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী নৌযান ও একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও আজ পর্যন্ত তার উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়নি। এ ঘটনায় মংলা থানায় কয়লা মালিক, কার্গো পক্ষ ও বনবিভাগ থেকে ৩টি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে।

মংলা বন্দরের হার্বার বিভাগ থেকে কার্গো মালিককে উদ্ধার তৎপরতা শুরুর আহবান জানিয়ে চিঠিও দেওয়া হয়। তাতে ১৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। 

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে হিরণপয়েন্ট ফেয়ারবয়ার কাছে কয়লা বোঝাই এমভি আইচগাতি ডুবির ঘটনা ঘটে। সে ঘটনায়ও মংলা থানায় ২টি জিডি করা হয়। 

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিকেলে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীর “হরিণটানা” বন টহল ফাঁড়ির কাছে ১২৩৫ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে “এমভি সী হর্স-১” ডুবে যায়। 

২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর মংলা বন্দরের হারবাড়িয়া ৩ থেকে ৫১০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা মিনি কার্গো "জিয়া রাজ" পশুর চ্যানেলের জয়মনিরঘোল এলাকায় ডুবে যায়। এ ঘটনায় বন কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে কার্গো মালিক দিখ খান ওরফে হোসাইন খান ও মাষ্টার ভুলু গাজীর নামে ৫ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে উল্লেখ করে মামলা দায়ের করলে পুলিশ  মাস্টার ভুলু গাজীকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করে।

২০১৫ সালে শরণখোলা এলাকায় এমওপি সার নিয়ে একটি কার্গো ডুবেছিল। এমওপি জলজ প্রাণীর জন্য হুমকিস্বরূপ।

২০০৭ সালে কয়রার কাছে ফ্লাই অ্যাশসহ একটি কার্গো ডুবেছিল। ফ্লাই অ্যাশে কয়লার রাসায়নিক পদার্থের অধিকাংশই উপস্থিত থাকে।

About

Popular Links