Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীরা

শিক্ষকের অভাবে পরিপূর্ণ শিক্ষা লাভ করতে না পারায় ভবিষ্যত কর্মজীবনে এর প্রভাব পড়ার হতাশা ব্যক্ত করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৫:৩৪ পিএম

শিক্ষক সংকটে রয়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ। এ ছাড়াও রয়েছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকটও। ফলে ব্যহত হচ্ছে ১৬০ আসনের এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম

মেডিকেল কলেজ সূত্রের বরাত দিয়ে ইউএনবি জানিয়েছে, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজটি ১৯৯২ সালে কুমিল্লার কুচাইতলীতে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৫০জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে কলেজটি। ওই ৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে যে জনবল নিয়ে এই মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২৬ বছরেও সে জনবল বাড়েনি, উল্টো কমেছে। কলেজটিতে প্রতি বছর ১৬০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। 

বর্তমানে ৬১৪ জন শিক্ষার্থীর কলেজটিতে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকের ১৪৬টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৫৮টি পদ। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, মেডিকেল কলেজটির এনাটমি বিভাগে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক নেই। প্রভাষক আর গেস্ট টিচার দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও ফিজিওলজিতে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক নেই। বায়োকেমিস্ট্রিতে সহযোগী অধ্যাপক থাকলেও অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক নেই।

কমিউনিটি মেডিসিনে সহকারী অধ্যাপক আছেন, কিন্তু অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক নেই। ফরেনসিক মেডিসিনে প্রভাষক রয়েছেন মাত্র দুইজন। আর প্যাথলজিতে সহকারী অধ্যাপক থাকলেও, নেই অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক।

একই অবস্থা মাইক্রোবায়োলজি বিভাগেও, বিভাগটিতে সহকারী অধ্যাপক আছে। তবে নেই অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক। ফার্মাকোলজিতে আছে সহকারী অধ্যাপক, কিন্তু অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদটি শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন যাবত।

শিক্ষকের অভাবে পরিপূর্ণ শিক্ষা লাভ করতে না পারায় ভবিষ্যত কর্মজীবনে এর প্রভাব পড়ার হতাশাও ব্যক্ত করেছেন শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ১ম ও ২য় বর্ষে বেসিক সাবজেক্টগুলো পড়ানো হয়। শুরুতে শিক্ষকের সংকটের কারণে আমাদের কোর্স শেষ করায় সমস্যায় পড়তে হয়। এখানে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অতিথি শিক্ষক এনে পাঠদান করানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তারা।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মহসিন-উজ-জামান চৌধুরী বলেন, “আমরা বারবার আবেদন করার পরও পদের সংখ্যা বাড়েনি। মঞ্জুর করা পদগুলোও খালি।”

তিনি আরও বলেন, “গেস্ট টিচার দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছি। এতো সংকট স্বত্ত্বেও আমরা শিক্ষাদানের চেষ্টা করছি। ভালো রেজাল্টও হচ্ছে।  প্রয়োজনীয় শিক্ষক পেলে আমরা আরও ভালো রেজাল্ট করতে পারবো।”

এ ছাড়াও অধ্যক্ষ বলেন, “এখানে শিক্ষকদের বাসস্থান নেই। নেই মসজিদ ও অডিটরিয়াম। এ বিষয়েও কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রয়োজন। একেবারে প্রয়োজনীয় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীও নেই। এতে দাপ্তরিক ও আভ্যন্তরীন কাজও ব্যহত হচ্ছে।”


About

Popular Links