Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঝুঁকি এড়াতে গাজীপুরে ভবনের কাজ বন্ধের নির্দেশ

ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে “আরেকটি রানা প্লাজার অপেক্ষায় বাংলাদেশ” লিখে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল।

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৭:৪১ পিএম

গাজীপুরের সালনায় চারতলা নির্মাণাধীন ভবনের দোতলার ছাদ থেকে খুঁটির অবস্থান পরিবর্তন হয়ে গেছে। পরে ছাদে আলাদা স্থানে খুঁটি স্থাপন করে আরও দুই তলা উঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই নির্মাণাধীন ভবনটির অবস্থান ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সালনা বিআরটিসি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষন ইন্সিটিউিটের বিপরীতে।

দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণাধীন চারতলা ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেবেকা সুলতানা মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ভবনটি পরিদর্শন করে, নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

জয়দেবপুরের ‘আহাম্মদীয়া’ হোটেল ব্যবসায়ী ফজলুল হক ওই ভবনটির মালিক। শারজিল হোসেন শান্ত নামের এক ব্যক্তি ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে “আরেকটি রানা প্লাজার অপেক্ষায় বাংলাদেশ” লিখে একটি স্ট্যাটাস দেন। (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠে।

গাজীপুর সদর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেবেকা সুলতানা জানান, ‘ফেইসবুকের কল্যাণে ভবনটির ব্যাপারে সংবাদ পেয়ে তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। ভবন মালিককে তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে তাকে নোটিশ পাঠানো হবে।’ এসময় গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মেহেবুবুর রহমান ও স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাবৃন্দ তার সঙ্গে ছিলেন।

গাজীপুর বিআরটিসি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের বিপরীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেই এ ভবনটি প্রায় দুই বছর যাবত নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। ভবনটির দ্বিতীয় তলার ছাদ থেকে মূল খুঁটি ছেড়ে ছাদের ওপর আলাদা স্থানে নতুন খুঁটি দিয়ে পরবর্তী তৃতীয় ও চতুর্থ তলা নির্মাণ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে দুটি তলায় মোট ৬টি খুঁটি ছাদে স্থাপন করা হয়েছে।

গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মেহেবুবুর রহমান বলেন, নিয়মানুযায়ী বহুতল বিশিষ্ট বেইজমেন্ট থেকে একটি খুঁটির ওপর আরেকটি খুঁটি স্থাপন করতে হবে। ছাদে আলাদা করে খুঁটি স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। ছাদের পুরুত্ব থাকতে হবে কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি। কিন্তু এ ভবনটির ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম মানা হয়নি। কোনো প্রকৌশলী এমন ডিজাইন দিতে পারেন না। দেখে মনে হচ্ছে, নিজেই এমন ডিজাইন করে ভবনটি নির্মাণ করেছেন। ভবনের একপাশে ডোবা রয়েছে। সেগুলোও আমলে নেওয়া হয়নি। এ ছাড়াও ভবনটির অতি নিকটে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইন প্রবাহিত হয়েছে। ওই লাইনের কোনও কভার নেই। ফলে ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নির্মিত হচ্ছিল। ব্যবহার শুরু হলে ঝুঁকির বাস্তবতা দেখা যেত।”

এর আগে বেলা ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরের প্রকৌশলী হাসিবুল ইসলাম ও চীফ এস্টেট অফিসার মো. শাহাদাত খন্দকার ভবন পরিদর্শন করেন। শাহাদাত খন্দকার জানান, ‘গাজীপুর মহানগর থেকে ভবনটির অনুমোদন নেয়া হয়নি। সড়ক ও জনপথের কিছু জায়গা ভবন নির্মাণে দখল করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে কয়েকজনকে কাজ করতে দেখা গেছে। তারা আমাদের দেখে পালিয়েছে।’

এ ব্যাপারে ভবন মালিক ফজলুল হক কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।


About

Popular Links